খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নোবিপ্রবির বাস; শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্যসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের যাতায়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি গাড়ি ব্যবহারের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালন করা হয়।

ঘটনার বিবরণ

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইলের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি বড় প্রতিনিধি দল ঢাকায় বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মোনাজাত করেন। এসময় উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন। পরিবহন পুলের তথ্যমতে, এই সফরের জন্য ক্যাম্পাস থেকে ১টি সাদা বাস, ২টি কোস্টাল, ১টি সিভিলিয়ান ও ১টি মাইক্রোবাসসহ মোট ৫টি গাড়ি ব্যবহার করা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত বাসের অভাবে নিয়মিত যাতায়াত ও একাডেমিক কার্যক্রমে ভোগান্তি পোহাতে হলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দূরপাল্লায় বাস ব্যবহারের বিষয়টি মানতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা।

  • ফারুক (১৫তম ব্যাচ): তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ফিল্ড ট্রিপে নোয়াখালীর বাইরে বাস দেওয়া হয় না এই অজুহাতে যে তা নিরাপদ নয়। অথচ ২৬৬ কিলোমিটার দূরে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাস দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন শিক্ষার্থীবান্ধব না হয়ে শিক্ষক-কর্মচারীবান্ধব হয়ে যাচ্ছে।”
  • নুর (১৬তম ব্যাচ): তিনি একে ‘চরম বৈষম্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শিক্ষার্থীদের অধিকার, কোনো দলের বাহন নয়।”
  • জাফর আহমদ সজীব (আইন বিভাগ): তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর চাটুকারিতার কালচার পরিবর্তনের আশা ছিল। রাষ্ট্রীয় এবং জনগণের টাকা খরচ করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার এই নোংরামিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।”

প্রশাসনের বক্তব্য

পরিবহন পুলের ফোরম্যান জামাল উদ্দিন জানান, গাড়িগুলো রিকুইজিশন নিয়ে প্রশাসনের অনুমতিক্রমেই ঢাকা গেছে। অন্যদিকে পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. কাউসার হোসেন বলেন, “যেকোনো স্টেকহোল্ডার ব্যক্তিগত রিকুইজিশনের মাধ্যমে গাড়ি নিতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী তারা ৪ হাজার টাকা ভাড়া ও তেলের বিল বহন করবেন।”

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রয়োজনে বাস পাওয়া যায় না, সেখানে বিশেষ আদর্শিক কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোযুক্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করা নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *