কুড়িগ্রামে সাড়া ফেলেছে ‘কাঁচা মরিচের রসগোল্লা’: স্বাদে ঝাল-মিষ্টির মিশেল
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

বাঙালির ভোজনবিলাসে মিষ্টির কদর চিরন্তন। তবে এবার কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সাধারণ সুমিষ্ট রসগোল্লার ধারণা বদলে দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ‘কাঁচা মরিচের রসগোল্লা’। ঝাল ও মিষ্টির এক অপূর্ব মিশেলে তৈরি এই অভিনব মিষ্টির স্বাদ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভোজনরসিকরা।
যেভাবে তৈরি হয় কাঁচা মরিচের রসগোল্লা
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথমে খাঁটি দুধ ফেটিয়ে তৈরি করা হয় ছানা। সেই ছানার সাথে কাঁচা মরিচের পেস্ট মিশিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়, যার ফলে মণ্ডটি ধারণ করে আকর্ষণীয় সবুজ রং। এরপর গোল গোল বল তৈরি করে হালকা চিনির সিরায় দীর্ঘক্ষণ জ্বাল দেওয়া হয়। রসগোল্লাগুলো ফুলে-ফেঁপে উঠলে তা গুড় বা চিনির গাঢ় সিরায় ডুবিয়ে রাখা হয়। এভাবেই তৈরি হয় কাঁচা মরিচের সুঘ্রাণযুক্ত ঝাল-মিষ্টি রসগোল্লা।
‘বনফুল সুইটমিট’-এ ভোজনরসিকদের ভিড়
নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারের ছোট একটি দোকান ‘বনফুল সুইটমিট’। সাইনবোর্ডবিহীন এই দোকানেই মিলছে হরেক রকমের মিষ্টির মাঝে এই বিশেষ কাঁচা মরিচের রসগোল্লা। ক্রেতাদের কেউ বসে খাচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের জন্য প্যাকেট করে নিয়ে যাচ্ছেন।
দোকান মালিক রিয়াজুল ইসলাম জানান, গত দুই বছর ধরে তিনি এই মিষ্টি তৈরি করছেন। প্রতি বছর শীত মৌসুমে এর চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের রসগোল্লা ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও তাঁর দোকানে আরও ২০ ধরনের মিষ্টি পাওয়া যায়।
ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া
মিষ্টির স্বাদ নিতে আসা রফিকুল ইসলাম ও দীলিপ কর্মকার জানান, কাঁচা মরিচের যে নিজস্ব সুগন্ধ, সেটি এই মিষ্টিতে পুরোপুরি অটুট থাকে। ঝাল ও মিষ্টির এই নতুন স্বাদ তাঁদের কাছে বেশ চমৎকার ও ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে।
