কথা বলতে তোতলামি, কুরআন তিলাওয়াতে বিস্ময়কর সাবলীল মিকাইল
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

কথা বলতে গেলে শব্দ জড়িয়ে যায়, থেমে থেমে বের হয় বাক্য। তোতলামির কারণে স্বাভাবিক কথাবার্তায় বেশ জড়তা থাকলেও পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের সময় যেন বদলে যায় সবকিছু। অনর্গল, স্পষ্ট ও সুরেলা কণ্ঠে তিলাওয়াত করে সবাইকে মুগ্ধ করছে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের শিশু হাফেজ তাকমিল উদ্দিন মিকাইল।
সাত মাসে কুরআনের হাফেজ
সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব মোহাম্মদপুর এলাকার তসলিম উদ্দিনের একমাত্র ছেলে মিকাইল। সে স্থানীয় তামীরুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসা থেকে মাত্র সাত মাসে পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে সে স্থানীয় মসজিদে তারাবি নামাজে ইমামতি করছে।
“তিলাওয়াত করলেই জড়তা কেটে যায়”
নিজের এই বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মিকাইল বলে, “ছোটবেলা থেকেই কথা বলতে গেলে আমার কণ্ঠ আটকে যায়। কিন্তু যখন কুরআন তিলাওয়াত করি, তখন আল্লাহর রহমতে আর কোনো জড়তা অনুভব করি না। আমি ভবিষ্যতে বড় আলেম হতে চাই।”
তার হিফজ শিক্ষক এমদাদ উল্লাহ মহাজির বলেন, “তাকমিল অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। তার তিলাওয়াতে বিশেষ মাধুর্য আছে। অল্প সময়ে তার এই অর্জন আমাদের গর্বিত করেছে।”
প্রশাসনের প্রশংসা
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আকিব ওসমান মিকাইলের এই প্রতিভাকে অলৌকিক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “জড়তা থাকা সত্ত্বেও তার অনর্গল কুরআন তিলাওয়াত এবং মাত্র সাত মাসে হাফেজ হওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরাই আমাদের সমাজের গর্ব।”
তামীরুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মো. নাছরুল্লাহ জানান, মিকাইলের এই অদম্য চেষ্টা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা।
