ঐতিহ্যবাহী কলার ঢাকুনায় ইফতার; ব্যতিক্রমী আয়োজনে মুগ্ধ হাজারো মানুষ
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

আধুনিক প্লাস্টিক বা সিরামিক সামগ্রীর ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন করে ফুটিয়ে তুলল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার একদল ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রমজানের ৬ষ্ঠ দিনে কলার ঢাকুনায় (কলার গাছের খোল থেকে তৈরি পাত্র) ইফতার পরিবেশনের মাধ্যমে এক ভিন্নধর্মী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঐতিহ্যের টানে হাজারো মানুষের মিলনমেলা
উপজেলার খড়িবাড়ি বাজারের তাহের প্লাজার ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে অংশ নেন প্রায় এক হাজারেরও বেশি বিভিন্ন শ্রেণির ধর্মপ্রাণ মুসল্লী। আধুনিক যুগের প্লেট বা ওয়ান-টাইম বক্স ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ দেশীয় ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে কলার ঢাকুনায় খিচুড়ি ও ইফতারি পরিবেশন করা হয়। এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মুসল্লীদের অনুভূতি ও প্রশংসা
ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, বর্তমান যুগে যেখানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সবকিছু বদলে যাচ্ছে, সেখানে এমন পরিবেশনা সত্যিই প্রশংসনীয়। এক মুসল্লী জানান, “আমার জীবনে আমি প্রথম কলার ঢাকুনায় ইফতার করছি, ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।” অন্য এক তরুণ জানান, কলার ঢাকুনায় খাওয়ার স্বাদ এবং অনুভূতি একেবারেই আলাদা ও প্রাকৃতিক।

আয়োজকদের ভাষ্য
তাহের প্লাজার ব্যবসায়ীগণ জানান, তাঁরা প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের খাবারের আয়োজন করেছিলেন। তাঁরা বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম আধুনিকতার ভিড়ে আমাদের পুরনো ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে। কলার ঢাকুনা কেবল পরিবেশবান্ধবই নয়, এর সাথে আমাদের আবেগ জড়িয়ে আছে। সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।”
গ্রামীণ সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ব্যতিক্রমী ইফতার মাহফিলের ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতি ও পরিবেশবান্ধব অভ্যাসকে উৎসাহিত করবে। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এসব পাত্র ব্যবহারের মাধ্যমে বিজাতীয় প্লাস্টিক সংস্কৃতির বিলোপ ঘটানো সম্ভব।
