আওয়ামী লীগ নেতা মনোহর আকন্দের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা ও জবরদখলের অভিযোগ
আনিছুর রহমান আইয়ুব, জামালপুর প্রতিনিধি

ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি, ধর্মীয় উপাসনালয়ের জায়গা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলের মহোৎসবে মেতে উঠেছেন এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দ। তাঁর ধারাবাহিক ভূমিদস্যুতা, জোর-জুলুম এবং জবরদখলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
প্রভাবশালী নেতার দখলদারিত্বের খতিয়ান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রভাব বিস্তার করে জমি দখল করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি পুকুর দখল, হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতভিটা দখল, ট্রাক সমিতি ও জেলা পরিষদ মার্কেটের সংলগ্ন জায়গা জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সরকারি খাস জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ এবং জেলা পরিষদের মার্কেটের রাস্তা বন্ধ করে দোকান ভাড়া দেওয়ার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছেন তিনি। দখল পাকাপোক্ত করতে তিনি ভুয়া কাগজপত্র ও জাল দলিল তৈরি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দলীয় পদ ও ত্রাসের রাজত্ব
অভিযুক্ত মনোহর আকন্দ স্থানীয় শ্রমিক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। দলীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় এক প্রকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া তাঁর নিত্যনৈমিত্তিক কাজে পরিণত হয়েছিল। এমনকি বিগত সরকারের প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের সতর্কবার্তাকেও তিনি তোয়াক্কা করেননি বলে জানা যায়।
সরকার পরিবর্তনের পরও বহাল তবিয়তে
গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও, এলাকায় মনোহর আকন্দের আধিপত্য কমেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, “সরকার পালালেও স্বৈরাচারের দোসররা এখনো বহাল তবিয়তে আছে।” তাঁর এই দাপটের নেপথ্যে কার খুঁটির জোর রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় গেলেই এখন সাধারণ মানুষের মুখে তাঁর দখলবাজির আলোচনা-সমালোচনার ঝড় শোনা যায়।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দের দখলবাজি ও হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সিধূলী ইউনিয়নের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। তাঁরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জবরদখল হওয়া সরকারি ও ব্যক্তিগত জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
