অটোরিকশা ছিনতাই ও কিশোর খুনের রহস্য উদ্ঘাটন; আন্তঃজেলা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

ফেনীতে কিশোর শান্ত কুমার সাহা (১৫) নিহতের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনা মনে হলেও ডিবি পুলিশের তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ছিনতাই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
দুর্ঘটনার আড়ালে ছিনতাইয়ের ছক
গত ৮ মার্চ সন্ধ্যায় ফেনী মডেল থানাধীন লালপোল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় শান্তর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী ডিবির এসআই রেজোয়ানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল অনুসন্ধানে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাইবার সেলের সহায়তায় জানা যায়, দুর্ঘটনার আগেই শান্তর অটোরিকশা ও মোবাইল ছিনতাই করা হয়েছিল।
সাঁড়াশি অভিযান ও গ্রেপ্তার
ডিবি টিম ও মডেল থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকা থেকে অটোরিকশা বিক্রির টাকাসহ সোহাগ এবং ছিনতাইকৃত মোবাইলসহ নাসিরকে গ্রেপ্তার করে। পরে সোহাগের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের কড়ইতলা থেকে ইমাম উদ্দিন ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমনের দেওয়া তথ্যে স্থানীয় একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার বডির অংশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।
যেভাবে চলত এই চক্র
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত নাসির ও সোহাগ চট্টগ্রামে একই বাসায় থাকত। নাসির ফোনে নোয়াখালীর ইমনের সাথে যোগাযোগ করে সোহাগকে ফেনীতে পাঠায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সোহাগ শান্তর অটোরিকশা ও মোবাইল ছিনতাই করে এবং ইমন সেই অটোরিকশার যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করার ব্যবস্থা করে।
সংশ্লিষ্ট খবর:খাল থেকে বস্তাবন্দী গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার; নিহত যুবক নিখোঁজ অটোরিকশা চালক
অপরাধী রেকর্ড ও মামলা
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত নাসিরের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই এবং সোহাগের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের বাবা কানু কুমার সাহার এজাহারের ভিত্তিতে ফেনী মডেল থানায় ১০ মার্চ একটি নতুন মামলা (নং- ২৮) রুজু করা হয়েছে।
