সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদকের অভিযান; অনিয়মের প্রমাণ
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

চিকিৎসকদের বিলম্বে উপস্থিতি, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং রোগীদের খাবার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে নোয়াখালীর সেনবাগ ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের কারণ ও বিবরণ
দুদক নোয়াখালী কার্যালয়ের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ইদ্রিস এবং উপ-সহকারী পরিচালক জাহেদ আলমের নেতৃত্বে দুদকের একটি দল এই এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালায়। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল যে, এই হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা সরকার নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসেন না। কেউ সকাল ১০টার পর, আবার কেউ দুপুরের পর কর্মস্থলে উপস্থিত হন।
প্রাথমিক তদন্তে যা মিলল
অভিযান চলাকালে দুদক দল দেখতে পায়, অনেক চিকিৎসক ও কর্মকর্তা যথাসময়ে হাসপাতালে উপস্থিত হননি, যা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। খাবারের মান এবং পরিমাণ—উভয় ক্ষেত্রেই বরাদ্দের তুলনায় বড় ধরনের গড়মিল লক্ষ্য করেন দুদক কর্মকর্তারা।
দুদকের বক্তব্য
অভিযান শেষে দুদক নোয়াখালীর ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ইদ্রিস উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা হাসপাতালটির প্রশাসনিক ও খাবারের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের তথ্য পেয়েছি। এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে নির্দেশনা আসার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
দুদকের এই আকস্মিক অভিযানে হাসপাতালের অনিয়মের শিকার রোগী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
