মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১৮ জন প্রভাবশালী নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বহিষ্কারের এই চিঠির কপি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হস্তগত হয়।
বহিষ্কারের নেপথ্য কারণ
দলীয় সূত্র জানায়, নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মাফিজুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ
বহিষ্কারের তালিকায় সেনবাগ উপজেলার বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা রয়েছেন। তাঁরা হলেন:
- বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ: সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, সেনবাগ উপজেলা বিএনপি এবং তিনবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।
- ওবায়দুল হক চেয়ারম্যান: সাবেক আহ্বায়ক, সেনবাগ উপজেলা বিএনপি এবং কাদরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।
- কামাল উদ্দিন বাবুল: সাবেক সদস্য সচিব, সেনবাগ পৌর বিএনপি এবং সাবেক প্যানেল মেয়র।
- উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কগণ: জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, ড. সৈয়দ নজরুল ইসলাম ফারুক, অ্যাডভোকেট সাখায়েত লিটন, মমিন উল্লাহ চেয়ারম্যান, মির্জা মো. সোলাইমান, মোয়াজ্জেম হোসেন সেলিম ও গোলাম হোসেন খোন্দকার।
তালিকায় আরও রয়েছেন নুরুজ্জামান চৌধুরী, আবু জাহের চৌধুরী জাফর, শাহেদুল করিম মারুফ, মাস্টার দলিলুর রহমান, রেজাউল হক হেলাল, তাজুল ইসলাম রতন, মহিন উদ্দিন কমিশনার এবং শহীদ উল্যা হেলাল।
বহিষ্কৃতদের প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সদ্য বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন এবং পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানাবেন।
নির্বাচনের আগমুহূর্তে একযোগে এত বিপুল সংখ্যক নেতার বহিষ্কার সেনবাগের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
