সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন: নোয়াখালী থেকে কেউ নেই, ফেনী-লক্ষ্মীপুরে স্বস্তি
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ সদস্যের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে ঘোষিত তালিকায় নোয়াখালী জেলা থেকে কেউ মনোনয়ন না পাওয়ায় স্থানীয় তৃণমূল রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের ধারাবাহিকতা
তালিকায় দেখা যায়, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা তাদের পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফেনী থেকে অভিজ্ঞ নেত্রী রেহানা আক্তার রানু এবং লক্ষ্মীপুর থেকে বিথীকা বিনতে হুসাইন মনোনয়ন পেয়েছেন। নোয়াখালী বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি হওয়া সত্ত্বেও এই জেলা থেকে কাউকে মূল্যায়ন না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন।
তালিকায় যারা ঠাঁই পেলেন
মনোনয়ন বোর্ডের দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার শেষে ৩৬ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তালিকায় অভিজ্ঞ ও নতুন মুখের সমন্বয় দেখা গেছে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন:
- সেলিমা রহমান
- শিরিন সুলতানা
- রাশেদা বেগম হিরা
- নিলুফার চৌধুরী মনি
- নিপুণ রায় চৌধুরী
- জেবা আমিন খান ও নেওয়াজ হালিমা আর্লি।
মনোনয়ন বঞ্চিত একঝাঁক প্রভাবশালী নেত্রী
এবারের তালিকায় অনেক হেভিওয়েট নারী নেত্রীর নাম না থাকায় রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। মনোনয়ন পাননি প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দীন মওদুদ। এছাড়া মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাবেক তুখোড় সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তালিকায় নাম আসেনি সংগীতশিল্পী বেবি নাজনীন এবং অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক-এরও।
বিশ্লেষকদের অভিমত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এবার সাংগঠনিক ত্যাগের পাশাপাশি নতুন ও সক্রিয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অনেক পরিচিত মুখকে সরিয়ে রেখেছে। তবে নোয়াখালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকে কোনো নারী নেতৃত্বকে কেন্দ্রীয় সংসদে না পাঠানোয় তৃণমূল পর্যায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নোয়াখালী জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা আশা করছেন, দলীয় নেতৃত্বের এই শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজনৈতিক মূল্যায়নে জেলাটিকে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা হবে।
