শিক্ষকদের গাফিলতি: মেধাবী শিক্ষার্থী ফাইজার শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত

আনিছুর রহমান আইয়ুব, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষকদের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শিকার হয়েছে তহুরা জান্নাত ফাইজা নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। নিয়মিত পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাকে অনিয়মিত শিক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র সরবরাহ এবং পরবর্তীতে ওএমআর (OMR) শিট সংশোধন না করায় ফাইজার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

মাদারগঞ্জ উপজেলার ঘুঘুমারী এমএকেএইচএস (২৪৭) কেন্দ্রে বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষার দিন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ফাইজা মহিষবাথান আর.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থী (রোল নং: ২৩৭৯৪৮)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা চলাকালীন কক্ষ পরিদর্শকগণ অসাবধানতাবশত ফাইজার হাতে নিয়মিত প্রশ্নের পরিবর্তে অনিয়মিত (Irregular) শিক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনি (MCQ) প্রশ্নপত্র তুলে দেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ফাইজা শিক্ষকদের জানালে তারা ভুল স্বীকার করে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে দেন। তবে প্রশ্ন পরিবর্তন করা হলেও ওই উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) শিটটি পরিবর্তন বা সংশোধন করা হয়নি।

পরিবারের ক্ষোভ ও আইনি পদক্ষেপ

শিক্ষার্থী ফাইজার বাবা মোঃ আসলাম ইকবাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী হলেও তাকে দেওয়া হয়েছিল অনিয়মিতের প্রশ্ন। পরে প্রশ্ন পাল্টে দিলেও ওএমআর শিট বদলানো হয়নি। এর ফলে কারিগরি কারণে ওএমআর মেশিনে উত্তরপত্রটি ত্রুটিপূর্ণ দেখাবে এবং তার ফল বিপর্যয়ের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।” তিনি শিক্ষকদের এই অপেশাদার আচরণের প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, “পরীক্ষার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। ওনার কাছে অভিযোগ দেওয়া থাকলে উনি বিষয়টি দেখবেন। অভিযোগটি আমাদের কাছে আসলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

ঘটনার বিষয়ে জানতে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সুমন চৌধুরীকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শাস্তির দাবি

একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আপামর জনসাধারণ এই ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী ফাইজা ও তাঁর সহপাঠীরা তাঁর শিক্ষাজীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *