মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষক হয়রানির প্রতিবাদে খালিয়াজুড়িতে মানববন্ধন

মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ কাউসার আহমেদকে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার ও হয়রানির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ। এর প্রতিবাদে শনিবার (১৬ মে ২০২৬) বিকেল ৪টায় এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে খালিয়াজুড়ি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক পরিবার।

গণমাধ্যমের একাংশের ‘অতিরঞ্জিত’ নিউজের প্রতিবাদ

মেন্দিপুর ইউনিয়নের জিয়াখড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী অংশ নেন।

মানববন্ধনে শিক্ষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১১ মে রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর দুষ্টামির জেরে শিক্ষক কাউসার আহমেদ ছোট একটি পানির বোতল দিয়ে শাসন করতে গিয়ে ভুলবশত এক শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত লাগে। ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং ওই শিক্ষার্থী সেদিন ১ম সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই খাতা জমা দিয়ে বাড়ি ফেরে।

অথচ, পরবর্তীতে কিছু সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে “২ লিটারের বরফযুক্ত বোতল দিয়ে আঘাত” এবং “শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে যাওয়া” ও “ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি” সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষক নেতারা প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থী যদি অজ্ঞানই হবে, তবে সে পরীক্ষা দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে খাতা জমা দিল কীভাবে? তা ছাড়া হাসপাতালে ভর্তির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও থানায় জমা দেওয়া হয়নি। এমন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একজন শিক্ষককে গ্রেফতার ও সামাজিক মর্যাদাহানি করার তীব্র নিন্দা জানান তাঁরা।

মানববন্ধনের নেতৃত্ব ও বক্তব্য

সাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম পাঠানের পরিচালনায় উক্ত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়াখড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হুমায়ুন কবির চৌধুরী।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক মোঃ বদরুজ্জামান, নার্গিস পারভীন, হিমাংশু সরকার, মোঃ মাসুদ গণি, তপন চন্দ্র সরকার, এবং সহকারী শিক্ষক আতাউল কবির চৌধুরী, মোঃ আজহার মাহমুদ ও মোঃ মোজাম্মেল হক।

এ সময় সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক আনিছুর রহমান, মনির রায়হান রাসেল, মোঃ গোলাম মৌলা, রুমা চৌধুরী, রত্না আক্তার, পলাশ দেবনাথসহ উপজেলার শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী।

সভাপতির আহ্বান

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর চৌধুরী বলেন, “শিক্ষক হলো জাতির বিবেক ও মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলার স্বার্থে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে সামান্য শাসন করতেই পারেন, যা এ দেশে চিরন্তন বাস্তব। কিন্তু সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদকে যেভাবে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিক্ষকের ওপর এমন অন্যায় ও অবিচার না হয়, সে জন্য আমরা প্রশাসনসহ সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করছি।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *