মালয়েশিয়ায় রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা আটকে আছে শুল্ক বাধায়

শফিকুল ইসলাম

কুয়ালালামপুর থেকে

আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭: ৫৬

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকাছবি: বাসস

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও তাতে বাংলাদেশের হিস্যা অনেক কম। বিশেষ করে, উচ্চ শুল্ক বাধার কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আশানুরূপ বাড়ছে না।

​বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মালয়েশিয়াকে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দেন। অথচ, ভারত, চীন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো শুল্কমুক্ত বা কম শুল্ক-সুবিধায় দেশটিতে পণ্য রপ্তানি করছে। এর প্রধান কারণ হলো, এসব দেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ (Free Trade Agreement) রয়েছে।

​এফটিএ না থাকায় মালয়েশিয়াতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। এ জন্য তাঁরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশটির সঙ্গে এফটিএ করার দাবি জানিয়েছেন।

হালাল পণ্যের বৃহৎ বাজার এবং রপ্তানি সম্ভাবনা

​মালয়েশিয়ার বহির্মুখী বাণিজ্য উন্নয়ন করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) তথ্য অনুসারে, দেশটিতে হালাল খাদ্যপণ্যের বাজার প্রায় ৫ হাজার কোটি (৫০ বিলিয়ন) ডলারের বেশি। এসব পণ্যের চাহিদা মেটাতে দেশটি ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি করে।

​বাংলাদেশও দেশটিতে হালাল পণ্য রপ্তানি শুরু করেছে। তবে তা পরিমাণে এখনো খুব কম, মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি ডলারের আশপাশে। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, শুধু শুল্ক বাধা দূর করা গেলেই দেশটিতে ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়বে পাঁচ গুণ।

​বাংলাদেশের শীর্ষ কোম্পানি প্রাণ গ্রুপ মালয়েশিয়ায় স্থানীয় সরবরাহকারী কোম্পানির মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রপ্তানি করছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, “মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাধা হলো দেশটির সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি না থাকা। এ কারণে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে।” তিনি আশা করেন, শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলে শুধু প্রাণের পণ্যের রপ্তানিই পাঁচ গুণ বাড়বে।

বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি

​মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে এফটিএ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। তবে সম্প্রতি এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা গতি এসেছে। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মোসাম্মাত শাহানারা মনিকা বলেন, “মালয়েশিয়ায় আমাদের বাজার সম্ভাবনা প্রচুর, কিন্তু শুল্ক ও বিধিনিষেধের সহজীকরণ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন।” তিনি জানান, এফটিএ নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

​তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রপ্তানি বাড়াতে হলে এফটিএ-র বিকল্প নেই।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *