
ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালী থানার চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ১২ বছরের শিশু ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোঃ সাকিব আল হাসান (২২)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা।
ঘটনার বিস্তারিত ও মামলা দায়ের
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে আসামি সাকিব আল হাসান তাকে প্রেমের প্রস্তাবসহ উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি ভিকটিমের পরিবার আসামির পরিবারকে জানালে সাকিব ক্ষিপ্ত হয় এবং ভিকটিমাকে অপহরণের হুমকি দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টায় বাদীর বসতবাড়ির কাছের রাস্তা থেকে অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় ভিকটিমকে জোরপূর্বক সিএনজিযোগে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে সাকিব।
উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে বিজ্ঞ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল, ময়মনসিংহে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে (মামলা নং-৪৯) একটি মামলা রুজু হয়। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল।
অভিযান ও আসামি গ্রেপ্তার
মামলা রুজুর পর এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ আসামিদের গ্রেপ্তার ও ভিকটিম উদ্ধারে আভিযানিক তৎপরতা শুরু করে। গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে এক অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১৪ এর চৌকস টিম ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার নওপাড়া তাজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মোঃ সাকিব আল হাসানকে গ্রেপ্তার করে। একই সাথে নান্দাইল থানার চন্ডীপাশা এলাকা থেকে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা
উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে নিরাপদ হেফাজতে পাঠানো এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।