মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও দেশীয় সিন্ডিকেটের যাঁতাকলে সাধারণ মানুষ!
জাহিদ হাসান

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক ধাক্কা সরাসরি অনুভব করছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের আসল সংকট কি শুধুই আন্তর্জাতিক বাজারের? নাকি ঘরের ভেতরের শত্রু সিন্ডিকেট?
বৈশ্বিক সংকটের আড়ালে দেশি কারসাজি
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে দেশের ভেতরের কিছু অসাধু সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ডলার সংকট আর রিজার্ভের চাপের কারণে জ্বালানি আমদানি যখন এমনিতেই চ্যালেঞ্জিং, তখন এই মুনাফাখোররা অবৈধভাবে তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিশ্ববাজারে দাম কমলেও এই ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয় বাজারে সাধারণ মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না।
চরম মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ
এই কৃত্রিম সংকটের চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে ভয়াবহ। তেলের দামের প্রভাবে—
- পরিবহন ব্যয়: হু হু করে বাড়ছে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন খরচ।
- উৎপাদন ব্যাহত: সেচ সংকটে কৃষিকাজ এবং জ্বালানি সংকটে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
- দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি: নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
সব মিলিয়ে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখন প্রায় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সময়ের দাবি: কঠোর আইনি ব্যবস্থা
এই কৃত্রিম সংকট আর মেনে নেওয়া যায় না। বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির পাশাপাশি অবৈধ মজুতদার এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। আর কতদিন সাধারণ মানুষ এই অসাধু চক্রের বলি হবে? এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই সচেতনতা ও গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
