মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

ধর্মঘটের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করায় শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মচারীদের গ্রেড উন্নয়ন ও প্রজ্ঞাপন কার্যকর করার দাবিতে চলমান আন্দোলন ও কর্মবিরতির প্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন ধরে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, সংবেদনশীল এই সময়ে শিশুদের পরীক্ষা স্থগিত রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত, এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এ ধরনের আন্দোলন কত বড় প্রভাব ফেলছে। অনেকে এ আন্দোলনকে আগামীর নাগরিকদের সাথে প্রহসন বলে মতামত প্রকাশ করেছেন। কারণ আজকে যে শিশু আগামীতে সে নাগরিক। আন্দোলন সংগ্রাম চলবে তবে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে নয়।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের বক্তব্য
- শিক্ষক নেতারা: শিক্ষক নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা গ্রেড উন্নয়ন, টাইম স্কেল এবং বকেয়া সুবিধা বাস্তবায়নের চেষ্টা করলেও তা যথাসময়ে কার্যকর না হওয়ায় বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নেমেছেন। তাঁদের দাবি, যথাযথ মূল্যায়ন ও মর্যাদা ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়।
- অভিভাবকের মত: অন্যদিকে অনেক অভিভাবক মনে করছেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি থাকলেও পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধর্মঘট তোলা উচিত ছিল না। একজন অভিভাবক বলেন, “পাঁচ বছরের বাচ্চাদের পড়াশোনায় ভাটা পড়ে। ওরা মানসিকভাবে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়। হঠাৎ পরীক্ষা বন্ধ হলে তারা হতাশ হয়।”
- গণমাধ্যম কর্মী: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গণমাধ্যম কর্মী বলেছেন, শিক্ষা খাতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, আন্দোলন করার অধিকার আছে, দাবি ন্যায্য হলে সরকারকে দ্রুত সমাধানে আসা উচিত। তবে পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা শিশুদের মানসিক ও শিক্ষাগত ক্ষতি ডেকে আনে।
সরকারি সূত্র
সরকারি সূত্রগুলোর তথ্য মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায়, শিক্ষকদের দাবি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। পরীক্ষা যাতে বেশি দেরি না হয়, সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
