ফ্লোটিলার যাত্রীদের ভয়ংকর নির্যাতন: শৌচাগারের পানি পান ও মারধরের অভিযোগ
আল-জাজিরা।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জাহাজ থেকে আটক হওয়ার পর ছাড়া পাওয়া এক অধিকারকর্মী ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অন্যরা তাঁকে স্বাগত জানান। ইস্তাম্বুল, তুরস্ক, ৪ অক্টোবর ২০২৫ছবি: রয়টার্স।
ইসরায়েলি সেনাদের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা-র অধিকারকর্মীরা আটক থাকা অবস্থায় ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। ত্রাণ নিয়ে গাজা অভিমুখে যাওয়ার সময় নৌ-অবরোধ ভাঙতে চাওয়া এসব অধিকারকর্মীকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছিল।
গত বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে ফ্লোটিলা নৌবহরে থাকা প্রায় ৪৫০ জনকে আটক করা হয়। ছাড়া পাওয়া অধিকারকর্মীরা ইসরায়েলি নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগ করেছেন।
অধিকারকর্মীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
মুক্তিপ্রাপ্ত অধিকারকর্মীরা জানান, আটক থাকা অবস্থায় তাঁদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়:
- শারীরিক নির্যাতন: তাঁদের হাঁটুতে ভর দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে বাধ্য করা হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে।
- খাদ্য ও পানীয়: তাঁরা তিন দিন কিছু খেতে পাননি এবং এমনকি শৌচাগারের পানি পান করে থাকতে হয়েছে। মালয়েশিয়ার গায়িকা হাজওয়ানি হেলমি বলেন, “কল্পনা করতে পারেন আমরা শৌচাগার থেকে পানি খেতে বাধ্য হয়েছি?” তাঁর বোন হেলিজা হেলমিও একই অভিযোগ করেন।
- মানসিক হয়রানি: ইতালীয় সাংবাদিক সাভেরিও তোমাসি অভিযোগ করেন, প্রহরীরা আটক অধিকারকর্মীদের নিয়ে বিদ্রূপ করছিল ও হাসাহাসি করছিল এবং তাঁদের ওষুধ দেওয়া হয়নি।
- চুরি ও হুমকি: আরেক ইতালীয় সাংবাদিক লরেনজো ডি’আগোস্তিনো বলেন, ইসরায়েলিরা তাঁর জিনিসপত্র এবং অর্থকড়ি চুরি করেছে। তাঁকে সহ অন্য কর্মীদের ওপর কুকুর লেলিয়ে দিয়ে এবং বন্দুকের লেজার লাইট তাক করে ভয় দেখানো হয়েছে।
পাওলো ডি মোনটিস নামের এক অধিকারকর্মী বলেন, তাঁদের সব সময় মাথা নত রাখতে হতো এবং তাকালেই ধাক্কা ও থাপ্পড় মারা হতো।
গ্রেটা থুনবার্গকে নিয়ে অভিযোগ: জলবায়ুবিষয়ক আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে আগেই অভিযোগ উঠেছিল। বলা হয়েছিল, গ্রেটাকে মাটিতে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খেতে বাধ্য করা হয়েছে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জাহাজ থেকে আটক হওয়ার পর ছাড়া পাওয়া এক অধিকারকর্মী ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়াচ্ছেন। ইস্তাম্বুল, তুরস্ক, ৪ অক্টোবর ২০২৫
ছবি: রয়টার্স।
ইসরায়েলের সাংঘর্ষিক বক্তব্য
এই অভিযোগগুলো নিয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দিয়েছেন।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি: তারা দাবি করেছে, খারাপ আচরণের অভিযোগ মিথ্যা এবং বন্দীদের সব আইনি অধিকার রক্ষা করা হয়েছে।
- বেন-গভিরের গর্ব: জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভির কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে কঠোর আচরণ নিয়ে গর্ববোধ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি গর্বিত যে আমরা ফ্লোটিলা কর্মীদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের মতো করে আচরণ করেছি।” তিনি আরও বলেন, যারা সন্ত্রাসকে সমর্থন করে তারা সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের সন্ত্রাসীদের মতো আচরণই প্রাপ্য।
ইসরায়েলে আটক হওয়া অধিকারকর্মীদের নির্যাতন করা নিয়ে পাকিস্তান, তুরস্ক ও কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সমালোচনা করেছে এবং বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। গ্রিস লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার আরও ২৯ জন ফ্লোটিলা কর্মীকে ফেরত পাঠানোর কথা জানিয়েছে।
