​নীরব বিপদ: মানুষের অনুপস্থিতিতেও দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে পোকামাকড়, কারণ কী?

জাহিদ হোসাইন খান। প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:০০

নানা কারণে পোকামাকড় হারিয়ে যাচ্ছেছবি: রয়টার্স

পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রে নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিভিন্ন পোকামাকড় উদ্বেগজনক হারে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, শুধু মানুষের উপস্থিতি আছে এমন এলাকা নয়, বরং প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও এই বিলুপ্তি ঘটছে।

​যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা ইউনিভার্সিটির চ্যাপেল হিলের গবেষকেরা দীর্ঘ দুই দশকের এক গবেষণার ভিত্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন।

​কলোরাডোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিলুপ্তির হার

​গবেষণাটি চালানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর একটি প্রত্যন্ত সাবঅ্যালপাইন তৃণভূমিতে, যেখানে মানুষের উপস্থিতি নেই।

  • পর্যবেক্ষণ সময়কাল: ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল (দুই দশক)।
  • পর্যবেক্ষিত হ্রাস: এই সময়ে উড়ন্ত পোকামাকড়ের সংখ্যা ৭২ শতাংশ কমে যেতে দেখা গেছে।
  • বার্ষিক হ্রাস: বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পোকামাকড়ের সংখ্যা বছরে গড়ে ৬.৬ শতাংশ হারে কমছে। দুই দশক জুড়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৭২.৪ শতাংশ

​ইউএনসি-চ্যাপেল হিলের সহযোগী অধ্যাপক কেইথ সকম্যান এই উচ্চ-উচ্চতার তৃণভূমিতে ১৫টি ক্ষেত্রে পোকামাকড়ের সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করেন এবং ৩৮ বছরের আবহাওয়ার রেকর্ডের সঙ্গে সেই তথ্য তুলনা করেন।

​পোকামাকড় কমে যাওয়ার মূল কারণ

​গবেষকেরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আবহাওয়ার কারণগুলোই এই বিলুপ্তির জন্য দায়ী।

  • তাপমাত্রা বৃদ্ধি: ক্রমবর্ধমান গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রার কারণে পোকামাকড়ের সংখ্যা কমছে বলে মনে করা হচ্ছে।
  • বৃষ্টির পরিবর্তন: তৃণভূমিতে বৃষ্টির ধরনে বেশ পরিবর্তন আসার কারণেও এই প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
  • বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতা: এছাড়া আবাসস্থলের সংবেদনশীলতা, স্থানীয় খাদ্য শৃঙ্খলের ওপর প্রভাব এবং সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়াও পোকামাকড়ের সংখ্যা কমার কারণ।

​গবেষণার গুরুত্ব

​অতীতে পোকামাকড় বিলুপ্তিসংক্রান্ত গবেষণাগুলো সাধারণত শহর বা মানুষের উপস্থিতি আছে এমন এলাকায় করা হতো। এবারই প্রথমবারের মতো মানুষ অনুপস্থিত এমন প্রত্যন্ত ও সংরক্ষিত এলাকায় গবেষণা করা হয়েছে।

​সাধারণভাবে পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্রে অনেক বেশি প্রজাতি থাকে। সেখানে বিশাল অংশে পোকামাকড়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার এই বিষয়টি নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করছে। কারণ, বাস্তুতন্ত্রে পোকামাকড়ের অনুপস্থিতি খাদ্য শৃঙ্খলের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *