ত্রিশালে রিজভী কনস্ট্রাকশনে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উদঘাটন: ৮ জন গ্রেপ্তার, ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার

​মোঃ মমিনুল ইসলাম মানিক, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহম্মদের নেতৃত্বে ত্রিশাল থানা এলাকায় ‘রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’-এর নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণস্থলে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একাধিক জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক এবং লুণ্ঠিত মালামালের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট

​গত ১ অক্টোবর ২০২৬ সালের সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট থেকে ২ অক্টোবর রাত ৩টার মধ্যে ত্রিশালের ২ নম্বর বৈলর ইউনিয়নের বৈলর মঠবাড়ি বড় পুকুরপাড় এলাকায় ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনসংলগ্ন রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দুটি ট্রাকযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে ছিল ৬০০ পিস এম.এস. পাইপ, ১৬০ পিস স্টিল শাটার, ১৬০ পিস স্টিল জয়েন্ট, ১০টি জানালার গ্রিল, ৯টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩৫ হাজার টাকা। যার মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

​এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অপারেশন) মো. মোখছেদুর রহমান বাদী হয়ে গত ৩ অক্টোবর ত্রিশাল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় একটি ডাকাতি মামলা (নং-০৩) দায়ের করেন।

​তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযান

​মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তকরণে কাজ শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, গাজীগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​অভিযানে নতুন করে গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন হলেন:

১. মো. সৈকত ওরফে সাখাওয়াত (২৪), জামালপুরের ইসলামপুর ও বর্তমান ঠিকানা গাজীপুর সদর।

২. মো. বাদল ওরফে আসলাম (২৮), ভোলার মুলাদী ও বর্তমান ঠিকানা গাজীপুর বাসন থানা এলাকা।

৩. মাসুদ মিয়া (৩৫), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও বর্তমান ঠিকানা গাজীপুর সদর।

৪. মো. ফরিদ হোসেন (৪৫), ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল ও বর্তমান ঠিকানা মুন্সিগঞ্জ গজারিয়া।

​এর আগে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অপর ৪ জন হলেন:

১. খবিজল (৩৫)—গ্রেপ্তার: ৯ অক্টোবর ২০২৬

২. আবু হানিফ (৩৮)—গ্রেপ্তার: ১৪ অক্টোবর ২০২৬

৩. মো. উজ্জল মিয়া (২৫)—গ্রেপ্তার: ১৪ অক্টোবর ২০২৬

৪. সোহেল (২৫)—গ্রেপ্তার: ১৫ অক্টোবর ২০২৬

​ট্রাক ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার

​গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী থানাধীন নাওজোড় এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ট-২০-৭২৬০) জব্দ করা হয়।

​পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত একটি লোহার কোম্পানির কারখানায় অভিযান চালিয়ে মামলার বাদী কর্তৃক শনাক্তকৃত লুণ্ঠিত মালামালের মধ্য থেকে ৬ পিস এম.এস. পাইপ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা হয়।

​পুলিশ জানিয়েছে, বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।