ঝাড়কাটা নদীর মাটি উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশ: সাংবাদিকের নামে মামলা
আনিছুর রহমান আইয়ুব, মাদারগঞ্জ (জামালপুর), প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ঝাড়কাটা নদীর খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্য দিবালোকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিন চিত্র ও অভিযোগ
গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঝাড়কাটা ব্রিজ থেকে প্রায় ৩০০ গজ পূর্ব পাশে নদীর ভেতরের খাস জমি থেকে ভেকু দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, পাশের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলছিয়া গ্রামের জনৈক নুর নবী এই অবৈধ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন। অভিযুক্ত নুর নবী আনসার বাহিনীতে কর্মরত থাকলেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অন্য উপজেলায় এসে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষি ও পরিবেশের ক্ষতি
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নিয়মিত মাটি কাটার ফলে নদীর তীরবর্তী সড়কগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া নদীর খাস জমিতে যেখানে বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হতো, সেখানে মাটি কাটার ফলে কৃষিকাজ পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্তের দম্ভোক্তি ও হয়রানিমূলক মামলা
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুর নবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলায় আনসার কমান্ডার হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এই অবৈধ মাটি কাটার সংবাদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর, সত্য ধামাচাপা দিতে এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে তিনি হয়রানিমূলক মামলার পথ বেছে নিয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা দাবি করেছেন।
প্রশাসনের আশ্বাস
মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। শিগগিরই সরেজমিনে পরিদর্শন করে অবৈধ মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
