চাকসু নির্বাচন: হল সংসদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাত্রদল-শিবিরের
সুজয় চৌধুরী
চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪: ১৯

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চাকসু ভবনছবি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন চাকসু হল সংসদ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে। ছাত্রদের ৯টি হলের মধ্যে ৭টিতে ছাত্রশিবির পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে। ছাত্রদলও একে একে হলে নিজেদের প্রার্থী তালিকা সাজাচ্ছে। অন্যদিকে, বামধারার সংগঠনগুলো কোনো হলে প্যানেল দাঁড় করাতে পারছে না। ফলে, হলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছবিটা ক্রমেই এই দুই সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আসছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ছাত্রসংগঠনগুলোর অবস্থান
জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা-হামলার মুখে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে ঠিকমতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি। রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যাওয়ার পর ছাত্রদল নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছে, তবে হলগুলোতে তাদের কোনো কমিটি নেই। অন্যদিকে, ২০১৪ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে না পারা ছাত্রশিবির বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ছাত্র হলেই কমিটি গঠন করেছে।
ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, শুধু অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল ও মাস্টারদা সূর্য সেন হলে তারা প্যানেল দেননি। বাকি হলগুলোতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়ে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
আগামী ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৪টি হলে (ছাত্রীদের ৫টি) নির্বাচন করতে মোট ৪৮১টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। প্রতিটি হলে ভিপি ও জিএসসহ ১৪টি করে পদ রয়েছে।
ছাত্রদলের প্রস্তুতি এবং বাম সংগঠনগুলোর দুর্বলতা
ছাত্রদল এখনো হলগুলোতে প্যানেল চূড়ান্ত করেনি। ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, এক-দুই দিনের মধ্যে হলগুলোতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল তারা ঘোষণা করবেন। অন্যদিকে, বামধারার সংগঠনগুলো হল সংসদ নির্বাচনে কোনো প্যানেল দিতে পারছে না। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের দাপটের কারণে তারা হলে কার্যক্রম চালাতে পারেনি। ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ঋজু লক্ষ্মী বলেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই তারা হলে প্যানেল দিতে পারছেন না।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, হলে প্যানেল দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে কেবল ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের। ফলে হল সংসদ নির্বাচনে মূল লড়াই এই দুই সংগঠনের প্রার্থীদের মধ্যেই হবে।
ইতিহাসের পাতায় চাকসু নির্বাচন
সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৩৫ বছর আগে, ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। সেই নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের তৎকালীন সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমদ জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই নির্বাচনে শাহ আমানত হল থেকে ভিপি হয়েছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতা জয়জীত কুমার বড়ুয়া। সর্বশেষ জিএস আজিম উদ্দিন আহমদ মনে করেন, বাম সংগঠনগুলো হলে রাজনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ পায়নি, যার কারণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে
