কোম্পানীগঞ্জে হাদি ও দীপু দাস হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

দেশে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং দীপু দাস, ওসমান বিন হাদি ও শিশু আয়েশা হত্যার বিচারের দাবিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় বসুরহাট জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রতিবাদের ভাষা ও দাবি
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যা, ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা এবং লক্ষ্মীপুরে শিশু আয়েশাকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা প্রমাণ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক। আসামিদের অনেক ক্ষেত্রে শনাক্ত করা গেলেও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া ধীরগতি হওয়ায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি সন্তোষ কুমার মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নির্বাহী সদস্য সজল মজুমদারের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন:
- মাহমুদুর রহমান রিপন, সাবেক সদস্য সচিব, উপজেলা বিএনপি।
- প্রভাষক বিমল চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।
- প্রবোধ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক, চর হাজারী জগন্নাথ মন্দির সমাজকল্যাণ পরিষদ।
- মতুয়া প্রতিনিধি শ্রী মৃত্যুঞ্জয় মজুমদার এবং ইসকনের প্রতিনিধি শ্রী নিতাই প্রভু প্রমুখ।
এছাড়াও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অসীম কুমারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান
বক্তারা সাফ জানিয়ে দেন, ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকার ও প্রশাসনের প্রতি তিনটি বিশেষ দাবি জানিয়ে তাঁরা মানববন্ধন শেষ করেন: ১. সকল হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করা। ২. চিহ্নিত অপরাধীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। ৩. সংখ্যালঘু এবং শ্রমজীবীসহ সকল সাধারণ নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এই মানববন্ধনে বক্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে সমাজে অস্থিরতা আরও বাড়বে।
