‘কুম্ভকর্ণ’ প্রিন্সিপাল: নিউটনের ৪র্থ শত্রু—কিছু হলেই “তিনি ঢাকায়”
জাহিদ হাসান

নিউটনের তিনটি সুপরিচিত সূত্রের বাইরেও বিজ্ঞানের এক রহস্যময় ও ‘অমেরুদণ্ডী’ চতুর্থ শত্রু বর্তমানে ময়মনসিংহের সিবিএমসিবি-তে আবিষ্কার হয়েছে! শত্রুটি হলো: “প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতির বিড়াল ধরা পড়লে, প্রিন্সিপালের অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।” এই বিচিত্র মহাসামাজিক ঘটনার প্রধান নায়ক আমাদের মেয়াদোত্তীর্ণ ভার্সন ‘কুম্ভকর্ণ’ প্রিন্সিপাল। প্রাগৈতিহাসিক যুগের কুম্ভকর্ণের তন্দ্রা ভাঙাতে গাধার ডাক বা বাদ্যযন্ত্র লাগত, কিন্তু আমাদের আধুনিক কুম্ভকর্ণকে জাগানোর চেষ্টা করলে শোনা যায় এক দৈববাণী— “স্যার তো ঢাকায়!”
ঢাকার গোলকধাঁধা ও প্রিন্সিপালের লুকোচুরি
তদন্তে দেখা গেছে, সিবিএমসিবি-তে যখনই কোনো জালিয়াতির গন্ধ বের হয়, যখনই ডা. পলাশরা মেটাডেটা এডিট করে রুটিন বদলান কিংবা বিনা এনওসিতে পাসপোর্ট পকেটে নিয়ে বিমানে চড়েন, ঠিক তখনই আমাদের প্রিন্সিপাল মহোদয়কে নিউটনের এই ৪র্থ শত্রুটি গ্রাস করে। তিনি তখন ময়মনসিংহের ধুলাবালি ছেড়ে ঢাকার স্নিগ্ধ ট্রাফিক জ্যামে হারিয়ে যান।
রহস্যের রাজা ‘অদৃশ্য হওয়ার জাদু’?
প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে যখন সত্যের আঁচড় পড়ে, তখন তিনি ঢাকায় কোন গর্তে নিজেকে ঢেকে রাখেন, তা এক বড় রহস্য। আজ যদি রাক্ষস রাজা রাবণ বেঁচে থাকতেন, তবে লঙ্কার সিংহাসন ছেড়ে দিয়ে বলতেন, “ভাই কুম্ভকর্ণ, তুই তো আমার চেয়েও বড় অভিনেতা! আমি অন্তত যুদ্ধ করে মরেছি, আর তুই তো ‘ঢাকা’ নামক এক ঢাল দিয়ে নিজের দায়িত্বহীনতাকে ঢেকে রহস্যের রাজা হয়ে দালালি করছিস!
প্যারালাল ইউনিভার্স ও জালিয়াতির মহোৎসব
প্রিন্সিপাল সাহেব যখন ঢাকায় ‘গবেষণা’ (নাকি গা ঢাকা?) দেন, তখন সিবিএমসিবি-তে ডা. মির্জা হামিদুল হকের সিন্ডিকেট যেন এক প্যারালাল ইউনিভার্স চালায়। সৎ চিকিৎসকদের ওপর মবিং চলে, মানসিকভাবে তাঁদের কোণঠাসা করা হয়—অথচ প্রিন্সিপাল মহোদয় তখন ঢাকার জ্যামে বসে রহস্যময় চ্যাটিং করেন!

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি অন্যায় দেখেও চুপ থাকে, সে এক বোবা শয়তান।” আমাদের প্রিন্সিপাল সাহেব তো আরও এক ধাপ এগিয়ে; তিনি চুপ থাকার পাশাপাশি সশরীরে পলায়ন করতেও ওস্তাদ। এই পলায়নপর মনোবৃত্তি দেখে সাধারণ ছাত্র-শিক্ষকরা এখন মুখ টিপে হাসে। তারা বলে, ‘বেহায়া স্যারকে ময়মনসিংহে খুঁজো না, তিনি এখন নিউটনের ৪র্থ শত্রু হয়ে ঢাকায় জ্যামে আটকে গেছেন।
সার্জারি ও কেমো: পলায়ন করে মুক্তি নেই
তারেক ভাই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এইসব ফ্যাসিবাদের ধারাবাহিক নাটক দেখতে আসেননি! প্যারাসিটামলে এই জরায়ু সুস্থ না হলে, প্রিন্সিপাল সাহেব নিজেকে যত বড় ‘কুম্ভকর্ণ’ ভাবুন না কেন, সত্যের ব্যবচ্ছেদ শুরু হয়ে গেছে। আপনি ঢাকায় থাকুন কিংবা লঙ্কায়, জালিয়াতির প্রতিটি নথিপত্র এখন জনসমক্ষে।
যে প্রশাসক জালিয়াতির নথিতে সই করার সময় সজাগ থাকেন, কিন্তু বিচারের সময় ‘ঢাকা’ চলে যান—তাঁর জন্য আমাদের প্রশ্ন: মেরুদণ্ডটা কি ঢাকায় ফেলে এসেছেন? যদি তাই হয়, তবে ফিরে এসে সেটা মেরামত করুন। কারণ, এই জালিয়াতির দুর্গন্ধ এতই তীব্র যে ঢাকার পারফিউমেও তা ঢাকা পড়বে না।
শেষ কথা
প্রিন্সিপাল মহোদয়, নিজেকে কতদিন আর ‘ঢাকা’ দিয়ে ঢেকে রাখবেন? রাবণের দীর্ঘশ্বাস আর জনগণের অট্টহাসি আপনার পিছু ছাড়বে না। সার্জারি যখন শুরু হবে, তখন ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে দিয়ে পালিয়েও রক্ষা পাবেন না। কেমোথেরাপির সেই ঝটকায় আপনার এই তথাকথিত ‘কুম্ভকর্ণ-নিদ্রা’ এমনভাবে ভাঙবে যে, তখন হয়তো ঢাকা ঢোকার পথটাও খুঁজে পাবেন না।

এত অনিয়মে চলছে এই প্রতিষ্ঠান!!? আপনারা কি কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন?
“নিজের মেরুদণ্ডটা বোধহয় ময়মনসিংহের ধুলাবালিতেই ফেলে এসেছেন, এখন ঢাকায় এসে ‘ঢাকা’ দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। জালিয়াতির দুর্গন্ধ ঢাকা দেওয়ার পারফিউম এখনো আবিষ্কৃত হয়নি স্যার!”