নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

“পোশাকটা অনেক সুন্দর লাগছে। আগে পুলিশকে দেখলেই মানুষের ভেতর যে ভয় ভয় জিনিসটা কাজ করত, সেটা কিছুটা হলেও কমবে।”
‘নতুন পোশাকে নেমেছে পুলিশ’ শিরোনামে গত শনিবার প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর পাঠকের করা ২৮টি মন্তব্যের একটি এটি। পাঠকেরা পুলিশের পোশাক নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
পুলিশের নতুন পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা। কেউ কেউ পোশাকটিকে সুন্দর বলছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন রংটা পছন্দ হয়নি, পুলিশের মনোবল দুর্বল করতেই এই পোশাক। কেউ কেউ বলছেন, পোশাক পরিবর্তন অর্থের অপচয়। আবার কারও কারও মন্তব্য, পোশাক বদলিয়ে কিছু হবে না। বদলাতে হবে পুলিশকে, যাতে তাঁরা জনগণের বন্ধু হন।
যেসব ইউনিটে পরিবর্তন
নতুন পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন শুরু করে গত শনিবার। ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) সব মহানগর পুলিশ এবং বিশেষায়িত ইউনিটে নতুন পোশাক পরে এরই মধ্যে দায়িত্ব পালন শুরু হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে পুলিশের সব ইউনিটে পৌঁছে যাবে নতুন পোশাক।
আগে জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশের পোশাক ছিল আলাদা। গাঢ় নীল রঙের পোশাক পরত জেলা পুলিশ। মহানগর পুলিশ পরত সবুজ রঙের পোশাক। এখন সবাই পরবে ‘আয়রন গ্রে’ রঙের পোশাক।
- পোশাক পরিবর্তন: জেলা পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর ও মহানগর পুলিশের পোশাক আলাদা হয়। রেঞ্জের অধীন জেলা পুলিশ এত দিন গাঢ় নীল রঙের পোশাক পরত। আর মহানগর পুলিশ পরত সবুজ রঙের পোশাক। এখন ‘আয়রন গ্রে’ রঙের পোশাক পরবেন জেলা ও মহানগরে কর্মরত সব পুলিশ সদস্য।
- বিশেষায়িত ইউনিট: পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশও নতুন পোশাক পরবে। এপিবিএন ও এসপিবিএনের পোশাক আগেরটাই থাকবে। সূত্র জানিয়েছে, সব মহানগর ইউনিটে পোশাক দেওয়া হয়েছে। জেলা ও রেঞ্জ পুলিশ পর্যায়ক্রমে নতুন এই পোশাক পাবে।
পরিবর্তনের কারণ ও প্রতিক্রিয়া
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এসে পুলিশ, র্যাব ও আনসারের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। গত জানুয়ারিতে এই তিন বাহিনীর জন্য নতুন পোশাক ঠিক করা হয়েছিল। তখন সমালোচনা হলে র্যাব ও আনসারের পোশাকে আর পরিবর্তন আনা হয়নি।
- বিতর্কিত ভূমিকা: পুলিশের কেউ কেউ বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে আগের পোশাক পরিবর্তন করা অপরিহার্য ছিল। পুরোনো পোশাক পুরোনো ‘অপেশাদার’ পুলিশ বাহিনীর কথা মনে করিয়ে দেয়। এ কারণে রং পরিবর্তন করা অপরিহার্য ছিল। এই পোশাক পরিবর্তন মূলত ‘প্রতীকী’।
- সদস্যদের মনোভাব: বদলে যাওয়া পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক পুলিশ সদস্যও পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরাও পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলছেন, এই রঙের পোশাক দেখতে ভালো লাগছে না। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল (ব্যঙ্গ) হওয়ায় তাঁরা অস্বস্তি বোধ করছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি–মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, এর আগে ২০০৪ সালে পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছিল। প্রায় ২১ বছর পর পুলিশে আবার পোশাকে পরিবর্তন আনা হলো।
পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক খান সাঈদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, “পুলিশের এখন পোশাক পরিবর্তনের তেমন কোনো প্রয়োজন ছিল না। নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ আছে। পোশাকের চেয়ে এগুলোয় মনোযোগ দেওয়া অধিক জরুরি ছিল।” তিনি আরও বলেন, এই পোশাক পরিবর্তনের কারণে পুরোনো-নতুন পুলিশের দুই ধরনের পোশাক পরিধান আসন্ন নির্বাচন ডিউটিতে মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। খান সাঈদ হাসানও ব্যক্তিগতভাবে এই মুহূর্তে পোশাক পরিবর্তন করাকে পছন্দ করছেন না বলে জানান।
