আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ: ট্রাইব্যুনালে হাজির ৬ আসামি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করা হবে আজ।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল), বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করবেন।
ট্রাইব্যুনালে হাজির আসামিরা
রায় ঘোষণা উপলক্ষে সকাল থেকেই কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ৬ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তাঁরা হলেন:
- পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
- বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
- তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ।
উল্লেখ্য, মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বেরোবির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ বাকি ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।
সরাসরি সম্প্রচার ও বিচারিক প্রক্রিয়া
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। গত ২৭ জানুয়ারি মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হলে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (CAV) রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ৫ মার্চ আজকের দিনটি (৯ এপ্রিল) রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারিত করা হয়।
প্রেক্ষাপট: জুলাই বিপ্লবের সূচনা
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে বীরদর্পে বুক পেতে নিহত হন আবু সাঈদ। তাঁর এই আত্মত্যাগ সারা দেশে আন্দোলনকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার তীব্র অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। গত বছরের ৬ আগস্ট এই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিচার।
আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের এই বিচারকে জুলাই বিপ্লবের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিচার হিসেবে দেখছে দেশবাসী। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
