অগ্নিকাণ্ডে খামারির স্বপ্ন পুড়ে ছাই: ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
ফারুক আহমেদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সীমান্তবর্তী কানিশারী ইউনিয়নের বিয়াতা গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হোসেন আহমেদ নামে এক খামারির স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার কানিশারী ইউনিয়নের বিয়াতা ৭নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ‘নূর এগ্রো ফার্মে’ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও খামারের মালিক সূত্রে জানা যায়, মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো খামারে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় খামারের কর্মচারী হৃদয়ের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে খামারের বড় একটি অংশ পুড়ে যায়।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
খামারের মালিক হোসেন আহমেদ জানান, ঘটনার সময় খামারে প্রায় ২ হাজার মুরগি ছিল। এর মধ্যে সাত শতাধিক মুরগি জ্যান্ত পুড়ে মারা গেছে। বাকি মুরগিগুলো ধোঁয়া ও উত্তাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিক্রির জন্য সংরক্ষিত ৬শ কেস ডিম প্রচণ্ড তাপে নষ্ট হয়ে গেছে।
আর্তনাদ করে হোসেন আহমেদ বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেল। চোখের সামনে জীবন্ত মুরগিগুলো পুড়ে মরল, কিছুই করতে পারলাম না। আমার আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
ঋণের বোঝা ও নিঃস্ব খামারি
হোসেন আহমেদ আরও জানান, কেবল নিজের পুঁজি নয়, বরং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ত্রিশাল শাখা থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি এই ব্যবসাটি পরিচালনা করছিলেন। একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন হারিয়ে এবং ঋণের টাকা পরিশোধের চিন্তায় তিনি এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জরুরি আর্থিক সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ত্রিশাল শাখার ব্যবস্থাপক কাউসার আহমেদ জানান, হোসেন আহমেদের খামারে অগ্নিকাণ্ডের খবর তিনি শুনেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত খামারির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি।
