৮৫ কোটি ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি: একক কর্তৃপক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর মান নিয়ন্ত্রণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।

ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘হালাল শিল্প খাতের উন্নয়ন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনা সভায় বক্তারা। আজ শনিবার মতিঝিলে ঢাকা চেম্বারের কার্যালয়েছবি: ঢাকা চেম্বারের সৌজন্যে

বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বাজারের আকার ৩ লাখ কোটি ডলারের বেশি, যা ২০৩৪ সালে প্রায় ৯.৫ লাখ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে। অথচ বাংলাদেশ বর্তমানে মাত্র ৮৫ কোটি ডলারের মতো হালাল পণ্য রপ্তানি করছে, যার বেশিরভাগই কৃষিভিত্তিক।

​খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস, কসমেটিকস ও খাদ্যপণ্যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এজন্য একক হালাল সার্টিফিকেশন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং মান নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

​আজ শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘হালাল শিল্প খাতের উন্নয়ন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

সমস্যা: একক কর্তৃপক্ষের অভাব ও জটিলতা

  • দ্বৈত সার্টিফিকেশন: ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) সহকারী অধ্যাপক মমিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (২৫৪টি কোম্পানিকে সনদ দিয়েছে) ও বিএসটিআই (২৩টি কোম্পানিকে সনদ দিয়েছে)—এই দুটি প্রতিষ্ঠান হালাল পণ্যের সনদ প্রদান করায় অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
  • অন্যান্য চ্যালেঞ্জ: তিনি আরও জানান, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে ও দেশের ব্র্যান্ডিংয়ে পিছিয়ে থাকা, এসএমইদের অনুপস্থিতি, সমন্বিত নীতিমালার অভাব এবং দুর্বল ট্রেসেবিলিটি হালাল পণ্যের বাজার ধরার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ব্যবসায়ীদের মূল দাবি

​ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা এবং নীতি সহায়তার অভাবের কথা তুলে ধরেন:

  • আন্তর্জাতিক সনদ: প্যারাগন গ্রুপের আবুল কালাম আজাদ বলেন, হালাল পণ্য রপ্তানিতে বিদেশি ক্রেতারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের হালাল সনদ চায়, যেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে।
  • মূল্য সংযোজন ও বিনিয়োগ: বেঙ্গল মিটের সায়েদুল হক ভূঁইয়া বলেন, হালাল এখন শুধু জবেহ পদ্ধতি নয়, বরং গরুর ফার্মিং ও খাবারসহ সামগ্রিক বিষয় দেখা হয়। মূল্য সংযোজন বাড়াতে বড় বিনিয়োগ ও সরকারের নীতিসহায়তা প্রয়োজন।
  • প্রযুক্তিনির্ভর ট্রেসেবিলিটি: প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটামরফোসিসের সাদিক এম আলম কাঁচামাল থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত হালাল প্রক্রিয়া অনুসরণের নিশ্চয়তা দিতে ব্লক চেইনভিত্তিক অনলাইন সার্টিফিকেশন ও একটি ন্যাশনাল হালাল রেজিস্ট্রি তৈরির প্রস্তাব দেন।

সরকারের অবস্থান

​বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মহাপরিচালক আরিফুল হক জানান, হালাল পণ্যের মান নিশ্চিত ও সনদের জন্য একটি একক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন এবং এটি নিয়ে কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, হালাল পণ্য উৎপাদনের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা যায় কি না, সেটি নিয়েও আলোচনা চলছে।

​ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন, দেশে এখনো একটি সরকারি মানসম্পন্ন (ট্রেসিবিলটিসহ) জবাইখানা নেই। শুরু থেকে এককভাবে কাজ করলে এখন আমরা মালয়েশিয়ার কাছাকাছি চলে যেতাম।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *