প্রযুক্তি ডেস্ক

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বার্তাটিতে দাবি করা হচ্ছে, “আগামীকাল থেকে সরকার হোয়াটসঅ্যাপের ওপর নতুন নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সব কল রেকর্ড করা হবে এবং ব্যবহারকারীদের কার্যক্রমের ওপর সরাসরি নজরদারি চালানো হবে।” এমনকি তিনটি ‘টিক মার্ক’ (টিক চিহ্ন) এর কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন রঙের ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি নজরদারির ইঙ্গিত দেয়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া, ভিত্তিহীন এবং একটি সাজানো গুজব। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা (যেমন CyberPeace Foundation) এবং সরকারি তথ্য বিভাগ (যেমন PIB Fact Check) ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে, সরকার এমন কোনো নির্দেশিকা জারি করেনি। হোয়াটসঅ্যাপ হেল্প সেন্টারও এ ধরনের কোনো সরকারি নিয়ম কার্যকর হওয়ার খবর অস্বীকার করেছে।
কেন এটি একটি গুজব:
- এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন: হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিটি বার্তা ও কল ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড’। এর অর্থ হলো, প্রেরক এবং প্রাপক ছাড়া তৃতীয় কোনো পক্ষ—এমনকি খোদ হোয়াটসঅ্যাপ বা সরকারও এই বার্তা পড়তে বা শুনতে পারে না। এই সিস্টেম বার্তা এবং কলের গোপনীয়তা নিশ্চিত করে।
- আইনি প্রক্রিয়া: সরকারের নজরদারি বা ডেটা চাওয়ার ক্ষেত্রে আইনত নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। এটি তাৎক্ষণিক বা নির্বিচার নিয়ন্ত্রণ নয় এবং ব্যক্তিগত চ্যাটগুলোতে সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনো বিধান নেই।
- সতর্কতা: এই ধরনের ভুয়া বার্তা বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা জরুরি। এ ধরনের ভুল তথ্য কেবল জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
CyberPeace Foundation এবং WhatsApp Help Center অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো সরকারি নিয়ম কার্যকর হয়নি। ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত না হয়ে যাচাইকৃত তথ্যের উপর নির্ভর করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন, হোয়াটসঅ্যাপে ছড়ানো এই বার্তাটি সম্পূর্ণ গুজব এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।






