মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর আংশিক) আসনে নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সেনবাগে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার সমর্থনে এক বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জনসমুদ্রে পরিণত সেনবাগ
বেলা তিনটার দিকে সেনবাগ পৌর শহরের দক্ষিণ বাজারে অবস্থিত জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল শাপলাকলি প্রতীকের পোস্টার ও ব্যানার।
গণমিছিলের রুট
বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার নেতৃত্বে বিশাল গণমিছিলটি বের হয়। মিছিলটি সেনবাগ পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। রুটটি ছিল:
- দক্ষিণ বাজার থেকে শুরু হয়ে সেনবাগ থানার মোড়।
- সেনবাগ প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে সরকারি পাইলট হাই স্কুল।
- উপজেলা পরিষদ চত্বর হয়ে সরকারি হাসপাতাল এলাকা।
- কাদরা এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা পরিষদ মার্কেটে গিয়ে শেষ হয়।
প্রার্থীর আবেগময় বক্তব্য
মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে শাপলাকলি প্রতীকের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া ভোটারদের উদ্দেশ্যে এক আবেগময়ী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “এলাকার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পরিবর্তনের লক্ষ্যেই আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। শাপলাকলি প্রতীকে ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।” এ সময় উপস্থিত জনতা ‘শাপলাকলি, শাপলাকলি’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
গণমিছিলে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন:
- মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াছিন করিম, আমির, সেনবাগ উপজেলা জামায়াত।
- মাওলানা আব্দুল মালেক, নায়েবে আমির ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান।
- মাওলানা নুরুল আফসার, সেক্রেটারি, উপজেলা জামায়াত।
- মাওলানা মো. হানিফ ও নুরুল হুদা মিলন, সহকারী সেক্রেটারি।
- মাওলানা ইয়াছিন মিয়াজী, আমির, সেনবাগ পৌর জামায়াত।
- আলাউদ্দিন আলো, সভাপতি, পৌর যুব জামায়াত।
প্রচারণার শেষ দিনে এই বিশাল শোডাউন নোয়াখালী-২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
