সৃষ্টির পরিবর্তন ও ডিএনএ হ্যাকিং: আমরা কি স্রেফ বিষের চাষ করছি?

জাহিদ হাসান

র: মহান আল্লাহ প্রতিটি ফসল ও ফল সৃষ্টি করেছেন একটি নিখুঁত ভারসাম্য দিয়ে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান আজ উচ্চফলন বা পোকা দমনের নাম করে ল্যাবরেটরিতে ফসলের ডিএনএ বদলে দিচ্ছে। যাকে আমরা চিনি GMO (Genetically Modified Organism) হিসেবে। প্রশ্ন জাগে—আল্লাহর দেওয়া নিখুঁত নকশা কি অপরিপূর্ণ ছিল যে মানুষের আজ তা ‘এডিট’ করতে হচ্ছে?

শয়তানের সেই প্রাচীন প্রতিশ্রুতি

পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নিসার ১১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ শয়তানের একটি ভয়ংকর প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন। শয়তান বলেছিল, “আমি অবশ্যই তাদের নির্দেশ দেবো, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তন (Alteration of Creation) করবে।” আজ যখন আমরা ল্যাবরেটরিতে জিন পরিবর্তন করে বিটি বেগুন বা বিচিহীন ফল বানাচ্ছি, তখন কি আমরা অজান্তেই সেই শয়তানি এজেন্ডার দাবার ঘুঁটি হচ্ছি না?

বিটি বেগুন: খাদ্য নাকি ল্যাব এক্সপেরিমেন্ট?

বাংলাদেশে বহুল আলোচিত ‘বিটি বেগুন’ আসলে কী? এর ভেতরে Bacillus Thuringiensis নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার জিন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো—বেগুনের ভেতর এমন এক প্রোটিন তৈরি করা যা খেলে মাজরা পোকা মারা যাবে। প্রশ্ন হলো, যে বিষে পোকা মরে, সেই বেগুন আপনার ও আপনার সন্তানের শরীরে দিনের পর দিন গিয়ে কী ঘটাচ্ছে?

বিচিহীন ফলের মরণফাঁদ

কুদরতিভাবে প্রতিটি ফলের বিচি হলো তার বংশবৃদ্ধির মূল ভিত্তি। যে ফলের প্রজনন ক্ষমতা ল্যাবরেটরিতে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, সেই ফল মানুষের প্রজনন ক্ষমতা বা ডিএনএ-র ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে—তা কি কোনো গবেষক আপনাকে স্পষ্টভাবে বলেছে? দাজ্জালি সিস্টেম এভাবেই আমাদের বংশগতির মূল শিকড়ে আঘাত করছে।

বীজের আধিপত্য ও জায়োনিস্ট চক্রান্ত

আগে কৃষকরা নিজের ঘরের বীজ দিয়ে চাষ করত। এখন জিএমও বীজের মালিক হলো গুটিকয়েক জায়োনিস্ট কোম্পানি। এই বীজগুলো এমনভাবে প্রোগ্রাম করা যে একবার চাষ করলে দ্বিতীয়বার তা থেকে চারা হয় না। অর্থাৎ, প্রতি বছর আপনাকে তাদের কাছ থেকেই বীজ ও কীটনাশক কিনতে হবে। আপনার খাবারের চাবিকাঠি এখন তাদের হাতের রিমোট কন্ট্রোলে!

আমাদের বিবেক কী বলে?

আমরা কি উন্নত কৃষি দেখছি, নাকি স্রেফ বিষের চাষ করছি? স্রষ্টার সৃষ্টিকে বদলে দেওয়ার এই খেসারত আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে দিতে হবে না তো? সত্য অনেক সময় আপনার ডাইনিং টেবিলের প্লেটেই লুকিয়ে থাকে। উচ্চফলনের নামে এই ডিএনএ পরিবর্তন কি আসলেই আশীর্বাদ?

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *