শরীর ও ফুসফুস ‘ডিটক্স’ করতে দামি সাপ্লিমেন্ট নয়, ভরসা রাখুন প্রাকৃতিক উপায়ে
স্বাস্থ্য ডেস্ক

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে নানা ধরনের ‘ডিটক্স’ বা ফুসফুস পরিষ্কার করার জাদুকরী ওষুধের বিজ্ঞাপন। চটকদার এসব বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে অনেকেই হাজার হাজার টাকা খরচ করে বিদেশি বা নামসর্বস্ব ব্র্যান্ডের বোতলজাত সাপ্লিমেন্ট কিনছেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলে? আসলেই কি শরীর বা ফুসফুস পরিষ্কার করতে এমন কৃত্রিম ওষুধের প্রয়োজন আছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ মানুষের শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বা ‘টক্সিন’ বের করার জন্য কোনো বাহ্যিক ওষুধের প্রয়োজন নেই। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের শরীরেই দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘ফিল্টার’ বসিয়ে দিয়েছেন—লিভার এবং কিডনি। এই দুটি অঙ্গ সুস্থ থাকলে শরীর প্রাকৃতিকভাবেই নিজেকে বিষমুক্ত (Detox) করে নেয়।
চটকদার বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত না হয়ে, প্রাকৃতিকভাবে শরীর ও ফুসফুস সুস্থ রাখতে চিকিৎসকরা ঘরোয়া কিছু অভ্যাসের ওপর জোর দিয়েছেন:
১. ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে: শীতের আগমন বা ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ধুলোবালি থেকে বাঁচতে এবং শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখতে দামি সিরাপের চেয়ে কার্যকরী হলো:
- গরম পানির ভাপ (Steam Inhalation): ফুসফুস বা শ্বাসনালীতে জমে থাকা কফ বের করতে গরম পানির ভাপ নেওয়া একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি।
- আদা ও তুলসী চা: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ সমৃদ্ধ আদা ও তুলসী পাতা ফুটিয়ে চা পান করলে শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
- মধু ও কালোজিরা: প্রতিদিন সকালে সামান্য মধু ও কালোজিরা সেবন ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
শরীর ডিটক্স বা বিষমুক্ত করতে: লিভার ও কিডনিকে সচল রাখতে এবং শরীর থেকে বর্জ্য বের করে দিতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলাই যথেষ্ট:
- পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করলে কিডনি সচল থাকে এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বর্জ্য বেরিয়ে যায়। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি ও লেবুর রস লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- শারীরিক পরিশ্রম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটলে বা ব্যায়াম করলে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেক টক্সিন বেরিয়ে যায়।
- পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের সময় আমাদের শরীর নিজেকে মেরামত (Repair) করে, যা ডিটক্সিফিকেশনের জন্য অপরিহার্য।
সতর্কতা: অনলাইনে বা ফেসবুকে ভুইফোর প্রতিষ্ঠানের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ কেনা থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে যে সব পণ্যের বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদন নেই বা গায়ে উৎপাদনের সঠিক তারিখ ও উপাদান উল্লেখ নেই, তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। শ্বাসকষ্ট বা জটিল কোনো সমস্যা অনুভব করলে অনলাইন থেকে ওষুধ না কিনে সরাসরি একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
