“মাদকের সাথে কোনো আপস নয়, জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান চলবে”—পুলিশ সুপার

​স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

“মাদকের প্রশ্নে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, মাদক কারবারে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।”

​ময়মনসিংহ নগরীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ পাঁচজন গ্রেপ্তারের ঘটনায় এমনই কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. কামরুল হাসান।

​তিনি আরও জানান, কেবল হাতেনাতে ধরা পড়া ব্যক্তিরাই নয়, মাদকের এই চালানের উৎস এবং এর নেপথ্যে যারা কলকাঠি নাড়ছে বা মদদ দিচ্ছে—তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে জেলাজুড়ে পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

​অভিযান ও ১,২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

​এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে নগরীর সেওড়া মুন্সিবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবাসহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঘাগড়া এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৩০), একই এলাকার আব্দুল সাত্তারের ছেলে সজীব মিয়া (২০), ত্রিশাল উপজেলার শফিকুলের ছেলে শাকির হোসেন (২৫), নগরীর মধ্য বাড়েরা এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে জাকিরুল ইসলাম (৩২) এবং নগরীর সারদা ঘোষ রোড এলাকার সুধীর চন্দ্র সিংয়ের ছেলে উৎসব সিং সাগর (২৮)।

​পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সেওড়া মুন্সিবাড়ি এলাকায় উজ্জল মিয়ার বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে কতিপয় মাদক কারবারি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ঘেরাও করে আটক করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে দেহ তল্লাশি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

​আইনি ব্যবস্থা ও সাংগঠনিক প্রতিক্রিয়া

​এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিপন উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

​জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল হক জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

​এদিকে ছাত্রদল নেতার মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, “যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। সংগঠনে মাদক বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের স্থান নেই। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”