বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানির সাগরে পড়েন রোগীরা
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ:২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৫

জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা আর নানা সমস্যায় খুঁড়িয়ে চলছে শেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ থেকে শুরু করে রোগীদের খাবার—সবকিছুতেই সংকট থাকায় জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংকট সমাধানে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো উন্নতি চোখে পড়ছে না।
জনবল ও ওষুধের তীব্র সংকট
হাসপাতালটির প্রধান সমস্যা জনবল সংকট। এখানে ৫৮ জন চিকিৎসকের জায়গায় কর্মরত আছেন মাত্র ৩০ জন। সিনিয়র কনসালটেন্টের ১০টি পদের সবগুলোই শূন্য। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাচ্ছেন না। এছাড়া, সরকারিভাবে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও প্যারাসিটামল ও গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট ছাড়া তেমন কিছুই পান না বলে রোগীদের অভিযোগ।
নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনা
হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে বিরাজ করছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। অনেক রোগীকে বেড না পেয়ে আবর্জনার স্তূপের পাশে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। বাথরুমগুলো অপরিষ্কার, দরজা বা লাইটের ব্যবস্থা নেই। এতে রোগী ও স্বজনদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
দুর্ব্যবহার ও চরম নিরাপত্তাহীনতা
রোগীদের সাথে চিকিৎসক ও নার্সদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগও গুরুতর। সম্প্রতি তুচ্ছ কারণে চিকিৎসক কর্তৃক রোগীকে বের করে দেওয়া বা নার্স কর্তৃক শিশুকে ছুড়ে ফেলার হুমকির মতো ঘটনাও ঘটেছে। হাসপাতালটি মাদকসেবী ও কারবারিদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। রাতে তাদের আনাগোনা বাড়ায় নার্স ও স্টাফরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন বলে জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহিন জানান, ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার অনুমোদন পেলেও আমরা এখনও লোকবল নিয়োগের কোড পাইনি। কোডটি পেলেই এই সংকট কেটে যাবে।”
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, জেলার ১৬ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতালটি এখন হয়রানির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যার দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।
