বাবার আশঙ্কা, মায়ের গোপন সমর্থন: জিয়াউল হক পলাশের গল্প

মনজুর কাদের।

জিয়াউল হক পলাশ। ফাইল ছবি।

বিনোদন অঙ্গনে ১৩ বছর ধরে কাজ করছেন জিয়াউল হক পলাশ। সহকারী পরিচালক হিসেবে শুরু করলেও বর্তমানে অভিনয় এবং পরিচালনা—দুই মাধ্যমেই তিনি সমানতালে কাজ করছেন। একক ও ধারাবাহিক মিলিয়ে প্রায় ৮০টির মতো নাটকে অভিনয় করেছেন এবং ওটিটিতেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন।

​ঢাকার ধানমন্ডিতে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫’-এর শুটিংয়ের ফাঁকে তিনি তাঁর পথচলার গল্প শোনালেন।

​’ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ কাবিলা

​শহুরে মেসজীবনের নানা দিক নিয়ে নির্মিত ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর প্রথম সিজন প্রচারিত হয় ২০১৮ সালে। এই ধারাবাহিকে অভিনয় করেই পলাশ জনপ্রিয়তা পান, এবং এখন সবাই তাঁকে কাবিলা নামেই বেশি চেনেন।

​পলাশ মনে করেন, এই নাটক মানুষের মন ও আত্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। মানুষ মনে করে, এখানে তাদের জীবনের ফেলে আসা অনুভূতির কথা বলা হয়েছে, তাই সহজেই তারা এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

জিয়াউল হক পলাশ। ফেইসবুক থেকে।

সহকারী থেকে অভিনয়ে আসা

​পলাশের মাথায় অভিনয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না; সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি অভিনয়ের সুযোগ পান।

  • শুরুর দিন: ২০১৫ সালে ইশতিয়াক আহমেদ রোমেলের সহকারী হিসেবে ‘কারসাজি’ ধারাবাহিকের কাজ চলার সময় রোমেল তাঁকে টুকটাক অভিনয়ের সুযোগ করে দেন।
  • আলোচনায়: পরে তিনি কাজল আরেফিন অমির সঙ্গে সহযোগী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকে অভিনয় তাঁকে আলোচনায় নিয়ে আসে।
  • নির্মাতা ও অভিনেতা: পলাশ মনে করেন, একজন নির্মাতাকে অভিনয়ও জানতে হয়। অমি ভাই তাঁর মধ্যে থাকা অভিনয়ের অভ্যাসকে সবার সামনে তুলে ধরেন এবং অভিনয়ে আসাকে ত্বরান্বিত করেন।

জিয়াউল হক পলাশ।

পারিবারিক সমর্থন ও শিক্ষা

​পলাশের পরিবারের কেউ কখনো বিনোদন অঙ্গনে কাজ করেননি।

  • বাবার আশঙ্কা: বাবা মুজিবুল হক চাইতেন ছেলে তাঁর মতো প্রকৌশলী হোক।
  • মায়ের নীরব সমর্থন: গৃহিণী মা ফাতেমা আক্তার শুরুতে শঙ্কা থাকলেও গোপনে পলাশকে সমর্থন করতেন। রাতে বাবার কাছে মিথ্যা বলে নেওয়া টাকা মায়ের মাধ্যমে পলাশের বালিশের নিচে রাখা হতো।

​পলাশ জানান, গত বছর ওমরাহ সফরের সময় বাবার মুখে সবচেয়ে উজ্জ্বল হাসিটা দেখেছেন, যখন সৌদি আরবে বাঙালিরাও তাঁকে চিনেছেন এবং ভালোবেসে গ্রহণ করেছেন। বাবা তাঁকে সততা ও নিষ্ঠার শিক্ষা দিয়েছেন, “তুমি যে পেশায় আছ, সৎ থাকতে হবে।”

ব্যাচেলর পয়েন্ট’–এর প্রথম সিজন। ধারাবাহিকটির এখন পঞ্চম সিজন চলছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

​পলাশ পড়াশোনা ও সহকারী পরিচালনার কাজ একসঙ্গে চালিয়ে গেছেন। তিতুমীর কলেজ থেকে তিনি ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

​পরিচালক হিসেবে প্রথম নির্মাণ করেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা এখনো মুক্তি পায়নি। ২০১৮ সালে প্রথম নাটক ‘ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিট’ পরিচালনা করেন, এরপর আরও ১০–১৫টি নাটক পরিচালনা করেছেন।

​ভবিষ্যতে সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখছেন পলাশ। তিনি জানান, দুই-তিন বছরের মধ্যে প্রথম সিনেমার কাজ শুরু করতে চান। তিনি দ্রুত কিছু পাওয়ার তাড়া পছন্দ করেন না, বরং ধীরস্থির জীবনযাপন তাঁর পছন্দ, যার কারণে তাঁর প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *