বন্দিবিনিময়ের দিন নেসেটে ট্রাম্পের ভাষণে হট্টগোল

জেনোসাইড’ লেখা কাগজ উঁচিয়ে ধরেন ইসরায়েলের আইনপ্রণেতা আয়মান ওদেহ (মাঝে)। সোমবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে
ছবি: এএফপি।

রয়টার্স ও আল–জাজিরা।

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বন্দিবিনিময় হয়েছে। গতকাল সোমবার হামাস জীবিত জিম্মিদের ইসরায়েলের হাতে তুলে দিয়েছে এবং ইসরায়েলও চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৯৬৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

​বন্দিবিনিময়ের দিন মধ্যপ্রাচ্য সফরে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি হট্টগোলের মুখে পড়েন।

​নেসেটে হট্টগোল ও প্রতিবাদ

​ট্রাম্প যখন নেসেটে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন আয়মান ওদেহ নামের একজন আইনপ্রণেতা ‘ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই’ ও ‘জেনোসাইড’ (জাতিগত নিধন) লেখা কাগজ তুলে ধরেন।

  • ​এতে পার্লামেন্টে হট্টগোল দেখা দেয় এবং ট্রাম্পের ভাষণ কিছু সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়।
  • ​ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম আর্মি রেডিওর খবরে বলা হয়েছে, এই ঘটনার পর আয়মান ওদেহ এবং আরেক আইনপ্রণেতা ওফের কাসাইফকে নেসেট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
  • ​প্রতিবাদকারী আইনপ্রণেতা আয়মান ওদেহ এক্সে লিখেছিলেন যে পার্লামেন্টে যে ‘ভণ্ডামি’ চলছে তা অসহনীয় এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত ফিলিস্তিনিদের বাসে করে নেওয়া হচ্ছে। এ সময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাঁদের স্বাগত জানান। ১৩ অক্টোবর ২০২৫, খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালের বাইরে
ছবি: এএফপি।

শারম আল–শেখে শান্তি সম্মেলন

​নেসেটে ভাষণ শেষে ট্রাম্প মিসরের পর্যটন শহর শারম আল–শেখে ‘শান্তি সম্মেলনে’ যোগ দেন। এই সম্মেলনে ২৮টি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি নথিতে ট্রাম্পসহ অন্য বিশ্বনেতারা সই করেন।

(বাঁ থেকে) তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। মিসরের পর্যটন শহর শারম আল শেখে গাজা যুদ্ধ বন্ধে আয়োজিত ‘শান্তি সম্মেলন ২০২২৫’-এ, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
ছবি: রয়টার্স

সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্ভোগ ও রক্তপাতের পর গাজা যুদ্ধ শেষ হয়েছে।” তিনি যুদ্ধবিরতিতে ভূমিকার জন্য মিসর, কাতার, তুরস্কসহ আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

Leave a Comment