শিক্ষা ডেস্ক

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতির কারণে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত ২৭ নভেম্বর থেকে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’র অনুসারীরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন এবং বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষকদের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানায়।
মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস ও শিক্ষকদের অবস্থান
মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি ‘যৌক্তিক’ বলে বিবেচিত হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পে-কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পে-কমিশনে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণ নিয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানানো হয়।
পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানানো হয়।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী ১১তম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন। ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম বলেন:
“সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলেও আমরা তা বর্জন করছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।”
মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা ও শিক্ষা জীবনের ঝুঁকি
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে:
“১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এ সময়ে কর্মবিরতির কর্মসূচি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেবে। তাই শিক্ষার্থীদের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ এবং সরকারি চাকরি আইন ও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা পরিপন্থি কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষকদেরকে অনুরোধ করা হল।”
এই পরিস্থিতির কারণে লক্ষ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যা তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষক ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
