মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনকে কেন্দ্র করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ দ্রুতই বাড়ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী সব দলই মাঠে সক্রিয় হলেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট, জামায়াতের দীর্ঘদিনের সুসংগঠিত প্রস্তুতি এবং তরুণ ভোটারদের কাছে নতুন প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট ও উত্তেজনা
নোয়াখালী জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটিতে (নোয়াখালী-২, নোয়াখালী-৫ ও নোয়াখালী-৬) ঘোষিত প্রার্থীদের পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।
- নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক
- নোয়াখালী-৫ আসনে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম
- নোয়াখালী-৬ আসনে মাহবুবের রহমান শামীম
এ তিনজনের মনোনয়ন নিয়ে দলের একটি অংশ প্রকাশ্য আপত্তি জানিয়ে এসেছে, আবার অনেকে বলছেন আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কিছু-কিছু এলাকায় মশাল মিছিল, টুকিটাকি সহিংসতাও দেখা গেছে।
এছাড়া নোয়াখালী-১ ও নোয়াখালী-৩ আসনেও অসন্তোষ চাপা থাকলেও তা এখনো প্রকাশ্য রূপ নেয়নি। তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন নোয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. শাহজাহান, যিনি নির্বিঘ্নে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জামায়াত ও অন্যান্য দলের প্রস্তুতি
গত (৯–১০) মাস ধরে ছয়টি আসনেই ধারাবাহিক প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। মাঠপর্যায়ে সংগঠিত তৎপরতা এবং প্রতিটি এলাকায় নিজেদের অবস্থান জানান দিতে তারা ব্যাপকভাবে গণসংযোগে মনোনিবেশ করেছে। দলটির প্রার্থীরা দাবি করছেন, জনগণ এবার পরিবর্তন ও বিকল্প নেতৃত্ব চাইছে, যা তাদের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি করছে বলে তাঁরা মনে করেন।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সব আসনে প্রার্থী দিলেও তাদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে সীমিত, এবং নীরব।
নোয়াখালীর নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং গণ অধিকার পরিষদ। এনসিপি দুটি আসনে এবং গণ অধিকার পরিষদ একটি আসনে প্রার্থী দিয়ে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ (এনসিপি) তরুণ ভোটারদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। তাঁর গণসংযোগে তরুণদের উৎসাহ অন্য দলগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বিএনপির মনোনয়ন-অস্থিরতা জেলা রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দলটি যেখানে অভ্যন্তরীণ বিভাজন সামলাতে ব্যস্ত, সেখানে জামায়াত ও অন্যান্য দলগুলো শান্তিপূর্ণ ও ধারাবাহিক প্রচারণার মধ্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ফলে নোয়াখালীর ছয় আসনেই নির্বাচনী লড়াই বহুমাত্রিক চরিত্র ধারণ করছে, যেখানে বড় দুই রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতিও সমীকরণ বদলে দিচ্ছে।
