নিরাপত্তার অজুহাতে বুটেক্স দিবস স্থগিত, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
এস এম সাদিকুজ্জামান, বুটেক্স প্রতিনিধি

দেশের টেক্সটাইল শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) আজ ১৬তম বছরে পদার্পণ করেছে। ২০১০ সালের ২২ ডিসেম্বর কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ পালন করলেও এবার কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই দিনটি পার হয়েছে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আসন্ন সমাবর্তনের কারণ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে সকল আয়োজন স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও যুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে উদযাপনের প্রস্তুতি থাকলেও মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে নিরাপত্তার খাতিরে অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন্ন ২৭ ডিসেম্বর বুটেক্সের প্রথম সমাবর্তন (কনভোকেশন) অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার চাপও এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে বলে প্রশাসন দাবি করছে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
প্রশাসনের এই হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ ইমদাদ সরকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় দিবস একটি বড় আবেগের জায়গা। অনুষ্ঠানটি না করার সিদ্ধান্ত আরও আগে জানানো উচিত ছিল। আমার প্রস্তাব হলো, এই অনুষ্ঠানের বাজেট শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হোক।”
অন্যদিকে, নজরুল হলের ছাত্র প্রতিনিধি মোঃ আরিফুল ইসলাম প্রশাসনের কারণকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “নিরাপত্তার কারণে যদি উৎসব বন্ধ হয়, তবে পরীক্ষা কেন চলছে? মাত্র একদিন আগে নোটিশ দিয়ে আমাদের হতাশ করা হয়েছে।”
নিরাপত্তা ও শোকের ছায়া
তবে কিছু শিক্ষার্থী বর্তমান পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডসহ দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই স্থগিতাদেশ সঠিক বলেই মনে হচ্ছে।” উল্লেখ্য, হলের শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসবের পরিবর্তে কেবল উন্নত মানের খাবারের (ইম্প্রুভমেন্ট মিল) ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পেরিয়ে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন ঘিরে প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা এবং শেষ মুহূর্তের স্থগিতাদেশ ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
