নানা অজুহাতে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা জামায়াতের: প্রিন্স

স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিয়ত নানা অজুহাতে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে ফন্দিফিকির করছে। তিনি জামায়াতের আচরণকে ‘শিশুসুলভ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দুরভিসন্ধিমূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব), গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে তারা আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে বিলম্বিত বা অনিশ্চিত করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নাগলা বাজারে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ শেষে এক স্বতঃস্ফূর্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে বক্তব্য
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে শেখ হাসিনা যেমন ফ্যাসিবাদী হয়েছিলেন, তেমনি জামায়াত ভোটের পথে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে গণতন্ত্র ও ভোট বিরোধী শক্তি হিসেবে জনগণের কাছে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি জনগণের প্রতি ধানের শীষের প্রতি সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোটে আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জনগণের প্রতি নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এবার ভোট কেউ নস্যাৎ করতে পারবে না।”
৩১ দফার প্রতিশ্রুতি
গণসংযোগকালে প্রিন্স ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের হাতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান সংবলিত তারেক রহমানের ৩১ দফাসহ জনকল্যাণে বিএনপির আগামী পরিকল্পনা সমেত লিফলেট তুলে দেন।
তিনি বিএনপি সরকারের জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনার মধ্যে কয়েকটি তুলে ধরেন:
- কৃষক কল্যাণ: প্রান্তিক কৃষককে “ফার্মার্স কার্ড” প্রদান এবং প্রতি ইউনিয়নে ধান ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন।
- দরিদ্র কল্যাণ: “ফ্যামিলি কার্ড”-এর মাধ্যমে বিনামূল্যে খাদ্যদ্রব্যের একটি অংশ সরবরাহ এবং প্রতি ইউনিয়নে ‘ন্যায্যমূল্যের দোকান’ চালু।
- কর্মসংস্থান: শিক্ষিত বেকারের জন্য এক বছরের জন্য “বেকার ভাতা” এবং ক্ষমতায় আসার প্রথম ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
তিনি বলেন, বিএনপি বিজয়ী হলে ৩৬৫ দিনের গণতন্ত্র ও সুশাসনের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটাবে।
পথসভায় আমতৈল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক পরান আলী কাঞ্চুর সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় উপজেলা ও জেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
