নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

নতুন বাংলাদেশে টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজির রাজনীতি চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক (কায়েম)। আজ রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অডিটরিয়ামে তারুণ্যের উৎসব অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জুলাই বিপ্লব ও খুনি হাসিনার ব্যর্থতা
সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই শহীদ ও আজাদী আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আজকে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী আমরা বারবার বলছি তরুণদের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই এবং জুলাই বিপ্লবে আমরা দেখতে পেয়েছি তরুণরাই এ বিপ্লব ঘটিয়েছে। এই জুলাই বিপ্লবে বাংলাদেশের তরুণদের এক বিন্দুতে মৃত্যু হয়েছে।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বলেন:
“দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ আমলে আমরা দেখেছি খুনি হাসিনা এদেশের তরুণদেরকে পলিটিক্যাল করে রাখার চেষ্টা করেছিল এবং আই হ্যাড পলিটিক্স এই টাইপের একটি জেনারেশন বিল্ড করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু খুনি হাসিনা সব চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছিল এই ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে।”
তিনি বলেন, এই জুলাই বিপ্লবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছিল।
রাজনীতিতে আইডিয়ার আধিপত্য
সাদিক কায়েম বলেন, তরুণদেরকে সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী হিসেবে তৈরি করতে হবে। বিশ্বের বড় বড় যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে—অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, হার্ভার্ড, এমআইটি—ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরুণরা যেভাবে নিজেদেরকে প্রস্তুত করে ন্যাশনাল বিল্ডিং-এর জন্য, সেভাবে আমাদেরকেও প্রস্তুত হতে হবে।
তিনি নতুন বাংলাদেশে কোন রাজনীতি চলবে না, তা স্পষ্ট করে বলেন:
“বাংলাদেশে আর মাসল পলিসি চলবে না, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির রাজনীতি চলবে না। গণরুম-গেস্টরুমের কালচার চলবে না। জোরপূর্বক কাউকে প্রোগ্রামে নিয়ে যাওয়া, কারো অধিকার হরণ করা সেই রাজনীতি এখন চলবে না।”
তাঁর মতে, এখন বাংলাদেশের রাজনীতি হবে আইডিয়াল রাজনীতি। ছাত্রসংগঠনগুলো তাদের আইডিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে যাবে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আইডিয়া নিয়ে জনগণের কাছে যাবে। যাদের আইডিয়া ভালো লাগবে না, তার সমালোচনা করা যাবে, কিন্তু কেউ হকিস্টিক অথবা স্টাম্প নিয়ে যাবে না, কেউ মাসল পাওয়ার এখানে প্র্যাকটিস করতে পারবে না। ছাত্র রাজনীতি হবে ওয়েলফেয়ার সেন্ট্রিক এবং পলিসি সেন্ট্রিক।
স্বপ্নের ক্যাম্পাস ও লিডারশিপ
তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন ধারার এই ছাত্র রাজনীতি জুলাই বিপ্লব পরবর্তী দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন পরবর্তী তাঁদের ইশতেহারে বলা স্বপ্নগুলোর বাস্তবায়ন চান তিনি:
“আমাদের স্বপ্নের ক্যাম্পাসে আমাদের যেই কাঙ্খিত স্বপ্ন—সে স্বপ্নের ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষ থেকে তার পড়াশোনার চমৎকার পরিবেশ থাকবে, তার গবেষণার পরিবেশ থাকবে, তার আবাসন সংকট থাকবে না, তার স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা থাকবে, তার খাদ্যের নিরাপত্তা থাকবে এবং আমাদের নারীদের জন্য একটা নিরাপদ ক্যাম্পাস আমরা গড়ে তুলব।”
তিনি বলেন, বিগত ৫৪ বছরে অনেক নেতা তৈরি হলেও জাতির মুক্তি হয়নি। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার আলোকে বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে, তরুণদের পেট্রিয়টিক লিডারশিপ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান, ঢাবি প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
