তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরলেন হাসনা মওদুদ
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ অনুরোধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট লেখিকা হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
বৈঠক ও ফেসবুক বার্তা
বৈঠকে বসার আগে হাসনা মওদুদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে রাখা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নোয়াখালী-৫ আসনের দলীয় প্রেক্ষাপট উঠে আসে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোট বিভাজন রুখতে এবং মাঠ পর্যায়ে ঐক্য বজায় রাখতে তারেক রহমান তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।
নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে হাসনা মওদুদ তাৎক্ষণিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। পরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, “আজ গুলশান বিএনপি অফিসে বেগম জিয়ার শোক বইতে স্বাক্ষর করলাম। চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করলাম। তিনি আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রত্যাহার করতে বলেছিলেন।”
নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে হাসনা মওদুদ ওই অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি সরে দাঁড়ানোয় এখন এই আসনে বিএনপির মূল প্রার্থীর অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো এবং নেতাকর্মীদের মাঝে থাকা দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবসান ঘটল। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
হাসনা মওদুদ জানিয়েছেন, তিনি দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ভবিষ্যতেও বিএনপির সব রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় ভবিষ্যতে তাঁকে দলের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বা নীতিনির্ধারণী কোনো বড় দায়িত্বে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির একক আধিপত্য নিশ্চিতের পথ প্রশস্ত হলো এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে দলটি এখন পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারবে।
