ট্রাম্পের ওপর হামাসের এতটা আস্থার কারণ কী?

গাজা থেকে গতকাল সোমবার মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের রেডক্রসের গাড়িতে ইসরায়েলে নেওয়া হয়ছবি: রয়টার্স।
রয়টার্স
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘বর্ণবাদী’ আখ্যা দিলেও এখন তাঁর ওপর আস্থা রাখছে। দুজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামাসের বিশ্বাস—তারা সব জিম্মিকে মুক্তি দিলে ট্রাম্প হয়তো ইসরায়েলকে শান্তিচুক্তিতে বাধ্য করতে পারবেন।
গত মাসে নজিরবিহীন এক ফোনালাপের পর হামাসের মধ্যে এই বিশ্বাস জোরালো হয়েছে।
আস্থা তৈরির মূল কারণ
হামাস নেতাদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি আস্থা বাড়ার পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে:
১. কাতারের কাছে ক্ষমা চাওয়ানো:
* গত সেপ্টেম্বরে ইসরায়েল কাতারের রাজধানী দোহায় বিমান হামলা চালায়, যার লক্ষ্য ছিল হামাসের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারীদের হত্যা করা।
* হোয়াইট হাউসে এক বৈঠক শেষে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোনে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।
* ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্প কাতারের বিষয়টি ভালোভাবে সামাল দেওয়ায় হামাস নেতারা মনে করেন তিনি যুদ্ধের অবসানের বিষয়ে আন্তরিক এবং তিনিই নেতানিয়াহুকে মোকাবিলা করতে পারবেন।
২. নিরাপত্তার নিশ্চয়তা:
* ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে ইসরায়েল আর কখনো কাতারে এ ধরনের হামলা চালাবে না। এই ঘোষণা হামাস ও অন্যান্য আঞ্চলিক গোষ্ঠীর চোখে ট্রাম্পের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
* বার–ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অধ্যয়ন বিভাগের জোনাথান রেইনহোল্ড বলেন, ট্রাম্প কাতারকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ায় হামাসের মনে যুদ্ধবিরতি অটুট থাকা নিয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
হামাস এই আস্থা আরও বাড়িয়ে নিয়েছে গত বুধবার ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়ে যাওয়ার পর। গাজার এক কর্মকর্তা জানান, ইরান–ইসরায়েল সংঘাত বন্ধের জন্য ট্রাম্প প্রকাশ্যে নির্দেশ দেওয়ায়ও হামাস নেতাদের মনে বিশ্বাস জোরদার হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপগুলো তার কূটনৈতিক নীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।
