জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মতভিন্নতা: আইনি নয়, রাজনৈতিক অঙ্গীকার চান সালাহউদ্দিন আহমদ
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা কাটছে না। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দলগুলোর সর্বশেষ আলোচনায়ও ভিন্নমত উঠে এসেছে। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ঈষৎ সংক্ষিপ্ত আকারে এখানে তুলে ধরা হলো।

সালাহ উদ্দীন আহমেদ।
ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১: ০২
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা এখনো কাটছে না। সম্প্রতি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দলগুলোর সর্বশেষ আলোচনায় এই ভিন্নমত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ কমিশনের কাছে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি সনদ বাস্তবায়নের কিছু প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এই অনিশ্চয়তা বেশি দিন অব্যাহত রাখা যাবে না।”
গণপরিষদ ও সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার
সালাহউদ্দিন আহমদ গণপরিষদ গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে বলেন, গণপরিষদ গঠিত হয় নতুন সংবিধান প্রণয়ন বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য। তিনি যুক্তি দেন, একটি সাধারণ পার্লামেন্টের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করার এখতিয়ার নেই। তিনি উদাহরণ হিসেবে শ্রীলঙ্কার সংসদ ও গণপরিষদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, যেকোনো আইনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার আছে তা সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করার।
সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও আইনি বৈধতা
বিএনপির এই নেতা সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যদি আমরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় না থাকি, তাহলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, ঐকমত্য কমিশনসহ সবকিছুর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের যে অ্যাডভাইজারি রোল আছে, তা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য খুবই জরুরি।” তিনি আরও বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তবেই কোনো আইন বা পরিবর্তন বৈধতা পায়।
বাস্তবতার আলোকে বাস্তবায়ন
সালাহউদ্দিন আহমদ জোর দিয়ে বলেন যে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন একটি ‘জাতীয় প্রতিশ্রুতি’ হওয়া উচিত। তিনি প্রস্তাব করেন, এই প্রতিশ্রুতি একটি লিখিত অঙ্গীকারনামায় অন্তর্ভুক্ত হোক এবং সব দল তাতে স্বাক্ষর করুক। এরপর প্রতিটি দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তা উল্লেখ করুক। যে দলই ভবিষ্যতে সরকারে আসবে, তারা যেন এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে। তিনি বলেন, এর কোনো আইনি গ্যারান্টি না থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গীকারই যথেষ্ট। এই পথ অনুসরণ করলে অযৌক্তিক আইনি চ্যালেঞ্জ এড়ানো যাবে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের লিঙ্ক হলো:
https://www.supremecourt.gov.bd
