গণভোটে ঐকমত্য, তবে পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ভিন্ন মত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক। ফরেন সার্ভিস একাডেমি, ঢাকা ৫ অক্টোবর, ২০২৫ছবি: মীর হোসেন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে গণভোট করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চতুর্থ দিনের আলোচনায় দলগুলো এই বিষয়ে একমত হয়। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এটিকে “একটি বড় অর্জন” এবং সনদ বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে গণভোট কখন হবে (নির্বাচনের দিন নাকি আগে) এবং গণভোটের আগে সংবিধান আদেশ জারি করা হবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা রয়ে গেছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আশা করছে, আগামী বুধবার দুপুরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
গণভোটের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর প্রস্তাব
রোববারের আলোচনায় গণভোটের সময় ও প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে:
ইলিশ রপ্তানির প্রবণতা, গণভোটের সময় এবং শিক্ষাবৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য
১. ইলিশ রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রবণতা
এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম পরিমাণে ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানিকারকদের মতে, স্থানীয় বাজারে ইলিশের দাম সব সময় চড়া থাকা ইলিশ রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ।
ইলিশ রপ্তানির পরিসংখ্যান:
- সর্বোচ্চ রপ্তানি (২০২০-২১ অর্থবছর): এই অর্থবছরে ১৭ লাখ কেজি ইলিশ রপ্তানি হয় এবং আয় হয় ১০১ কোটি টাকা।
- অনুমতি (২০২৩-২৪ অর্থবছর): এই অর্থবছরে ২৪ লাখ কেজি ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
- বাস্তবে রপ্তানি (গত বছর): গত বছর বাস্তবে ৫ লাখ ৪৪ হাজার কেজি ইলিশ রপ্তানি হয়, যা অনুমতির মাত্র ২০ শতাংশ।
- বাস্তবে রপ্তানি (এ বছর): এ বছর অনুমতির মাত্র ১১ শতাংশ ইলিশ রপ্তানি হয়েছে।
২. জুলাই সনদ গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে:
- বিএনপি: দলটি জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট চায়, যা আলাদা ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি মনে করে, যেহেতু জনগণই সুপ্রিম, তাই এই পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।
- জামায়াতে ইসলামী: তারা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায়, যা নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসে হতে পারে।
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): এই দলটি জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট করার প্রস্তাব দিয়েছে।
৩. কাতারে শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ-সুবিধা
কাতারে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ শিক্ষাবৃত্তিতে বেশ কিছু সুবিধা দেওয়া হয়:
- আর্থিক সুবিধা: স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক ৭ হাজার ৫০০ কাতারি রিয়াল (প্রায় ২ লাখ হাজার টাকা) দেওয়া হবে।
- আবাসন: শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।
- আইইএলটিএস (IELTS) ছাড়: যদি শিক্ষার্থীর একাডেমিক কোর্স কারিকুলাম ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়, তবে এই বৃত্তির জন্য আইইএলটিএস-এর প্রয়োজন নেই।
৪. আইএলও কনভেনশন
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন হলো কনভেনশন ১৮৭। এই কনভেনশনের বিষয়বস্তু হলো পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা (OS&H)।

জাতীয় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। রোববার রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে
ছবি।
বিএনপি’র প্রস্তাব (সালাহউদ্দিন আহমদ):
বিএনপি মনে করে, যেহেতু জনগণই সুপ্রিম, তাই জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হলে সংবিধান আদেশ বা সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। শুধু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনকে গণভোটের ক্ষমতা দেওয়া যেতে পারে। গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলবে এবং ‘হ্যাঁ’ হলে সনদ বাস্তবায়ন করা বাধ্যতামূলক হবে।
জামায়াতের প্রস্তাব (হামিদুর রহমান আযাদ):
জামায়াত যেহেতু সব বিষয়ে একমত হতে পারছে না, তাই গণভোট চায়। তবে তারা জাতীয় নির্বাচনকে জটিল অবস্থায় না ফেলে নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরে, অর্থাৎ নির্বাচনের আগে গণভোট চায়। এতে জুলাই সনদের শক্তিশালী আইনি ভিত্তি হবে বলে মনে করে দলটি।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সন্ধ্যায় দোয়েল হল, ফরেন সার্ভিস একাডেমি
ছবি: মীর হোসেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। ৫ অক্টোবর, ২০২৫
ছবি।
জামায়াতের প্রস্তাব (হামিদুর রহমান আযাদ):
জামায়াত যেহেতু সব বিষয়ে একমত হতে পারছে না, তাই গণভোট চায়। তবে তারা জাতীয় নির্বাচনকে জটিল অবস্থায় না ফেলে নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরে, অর্থাৎ নির্বাচনের আগে গণভোট চায়। এতে জুলাই সনদের শক্তিশালী আইনি ভিত্তি হবে বলে মনে করে দলটি।
এনসিপি’র প্রস্তাব (জাবেদ রাসিন):
এনসিপি বলেছে, গণভোটের আগে অবশ্যই জুলাই সনদকে একটি লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক (এলএফও) বা সংবিধান আদেশের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা লাগবে। আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে দ্বৈত ভূমিকা পালন করবেন।
কমিশনের আশাবাদ
৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তৈরি জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত হলেও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় তা আটকে আছে।
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে আইনসভা তৈরি হবে, সেই আইনসভা যেন মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারগুলো করতে পারে এবং তাকে টেকসই করতে পারে—এ ব্যাপারেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যত একটি ঐকমত্য হয়েছে।
তিনি আশা করেন, খুব শিগগিরই সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুপারিশ তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দেওয়া সম্ভব হবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত সুপারিশ সরকারকে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। আলী রীয়াজ আরও জানান, ১৫ অক্টোবরের পর কমিশনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজন হবে না।
