খালিয়াজুড়িতে শোকাতুর অসহায় পরিবারের পাশে ইউএনও: তুলে দিলেন খাদ্যসামগ্রী
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়িতে ফসলহানি ও স্বজন হারানো এক চরম অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) রাতে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে ভুক্তভোগী রাহুল দাসের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে শুকনো খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন তিনি।
হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রেক্ষাপট
যাদবপুর গ্রামের মৃত অনাথ দাসের ছেলে রাহুল দাস অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। দীর্ঘ ২০ বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর মা ও তিন বোনকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি বড় বিপদ রাহুলের জীবনে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়ায়।
গত সপ্তাহে শিলাবৃষ্টিতে তাঁর ৮০ শতাংশ জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এই আর্থিক বিপর্যয়ের মাঝেই গত বুধবার ভোর রাতে রাহুলের মা সঞ্চিতা রাণী দাস (৬১) বাড়ির পাশে একটি গাছে গলায় গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ফসলহানি আর মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি বাকরুদ্ধ ও দিশেহারা হয়ে পড়ে।
ইউএনও’র মানবিক উদ্যোগ
রাহুলের এই চরম দুর্দশার খবর পেয়ে বুধবার রাত আনুমানিক ৭টার সময় তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন ইউএনও নাদির হোসেন শামীম। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ কেজি চাল, ২ কেজি তেল, ২ কেজি চিনি, ২ কেজি ডালসহ মোট ৩০ কেজির একটি শুকনো খাবারের প্যাকেট রাহুল দাসের হাতে তুলে দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম বলেন, “বিপদে ধৈর্য ধারণ করুন। সরকার ও প্রশাসন আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে আছে। সৃষ্টিকর্তা আপনাদের মঙ্গল করুন।”
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ শামীম মোড়ল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রীতিভোষণ দাস, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ সাকিল সারোয়ার এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অসহায় এই পরিবারের প্রতি প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
