কঙ্গোতে নৌকাডুবি: দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ১৯৩, নিখোঁজ দেড় শ’র বেশি। আল জাজিরা

কঙ্গোর বিশাল চিরহরিৎ বনসংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নদীপথই মূল ভরসাছবি: রয়টার্স
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০: ৪৭
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি পৃথক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। মাত্র ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) দূরত্বের ব্যবধানে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার এই দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রথম দুর্ঘটনা: শত প্রাণহানি
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কঙ্গো নদীর লুকোলেলা অঞ্চলে প্রায় ৫০০ যাত্রী বহনকারী একটি নৌকায় আগুন লেগে যায় এবং পরে সেটি উল্টে যায়। দেশটির মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় অন্তত ১০৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে এই নৌকাডুবি থেকে ২০৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় এখনো ১৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
দ্বিতীয় দুর্ঘটনা: শিক্ষার্থীদের মৃত্যু
এর আগের দিন, অর্থাৎ বুধবার, বাসানকুসু অঞ্চলে আরেকটি মোটরচালিত নৌকা ডুবে যায়। এতে অন্তত ৮৬ জনের মৃত্যু হয়, যাদের অধিকাংশই ছিল শিক্ষার্থী। এ ঘটনায়ও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। তবে নিখোঁজদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণ ও উদ্ধার অভিযান
দুটি ঘটনার কোনোটিরই সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবারের দুর্ঘটনাটি অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বোঝাই করা এবং রাতের অন্ধকারে নৌযান চালানোর কারণে ঘটে থাকতে পারে। স্থানীয় একটি নাগরিক সমাজ সংগঠন এই দুর্ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করে দাবি করেছে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি।
দুর্ঘটনার পর পরই নৌবাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার অভিযান চালান। কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং জীবিতদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথ ও যাতায়াতের বাস্তবতা
ডিআর কঙ্গোর বিশাল চিরহরিৎ বনসংলগ্ন অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য নদীপথই প্রধান ভরসা। এসব অঞ্চলে সড়কপথ সীমিত হওয়ায় পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের নৌযানগুলোই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। এসব নৌকা ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না, এবং প্রায়শই অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বোঝাই করা হয়। ফলে দুর্ঘটনা একটি নিয়মিত চিত্র। এসব যাত্রায় সাধারণত লাইফজ্যাকেট থাকে না এবং রাতের বেলায় চলাচল করায় উদ্ধার কার্যক্রম প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থল প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধারকাজও প্রায়ই ব্যাহত হয়। (https://www.aljazeera.com/)
