এশিয়া কাপে ইতিহাস সৃষ্টি: প্রথমবারের মতো ভারত–পাকিস্তান ফাইনাল!
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান
এএফপি
এবারের এশিয়া কাপে ক্রিকেটপ্রেমীদের বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের ফাইনাল নিশ্চিত হলো। সুপার ফোরের শেষ ও পঞ্চম ম্যাচে বাংলাদেশকে ১১ রানে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৪১ বছরের এশিয়া কাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা দেখতে যাচ্ছি ভারত–পাকিস্তান ফাইনাল। রোমাঞ্চকর এই মহারণটি অনুষ্ঠিত হবে রোববার দুবাইয়ে।
ম্যাচের গতিপথ: শ্বাসরুদ্ধকর সমাপ্তি
‘সেমিফাইনাল’ রূপে গণ্য হওয়া এই ম্যাচে পাকিস্তানের ১৩৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দল শেষ অবধি ১২৪/৯ রানে থেমে যায়।
শেষ ওভারে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৩ রান, হাতে ছিল শেষ উইকেট। হারিস রউফের করা প্রথম বলে ১ রান আসলেও, স্ট্রাইকে আসা রিশাদ হোসেন দ্বিতীয় বলে একটি চার মেরে দেন। তৃতীয় বলে কোনো রান না নিলেও, চতুর্থ বলে তিনি একটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে উত্তেজনা চরমে নিয়ে যান! শেষ ২ বলে যখন মাত্র ১২ রান দরকার, তখন রিশাদ ব্যাটে বল লাগাতে ব্যর্থ হন।
এর আগে, ২০১১ সালে মিরপুরে পাকিস্তান ১৩৫ রান করেই বাংলাদেশকে ৫০ রানে হারিয়েছিল। দীর্ঘ ১৪ বছর পর একই স্কোর করে পাকিস্তান এবার জয় পেল ১১ রানের ব্যবধানে।
পাকিস্তানের ব্যাটিং ও বাংলাদেশের বোলিং
প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান ২০ ওভারে ১৩৫/৮ রান সংগ্রহ করে। পাকিস্তানের পক্ষে হারিস (৩১) ও মোহাম্মদ নেওয়াজ (২৫) উল্লেখযোগ্য স্কোর করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ (৩/২৮), রিশাদ হোসেন (২/১৮) এবং মেহেদী হাসান (২/২৮) সফল ছিলেন।
বাংলাদেশের ব্যর্থতা ও পাকিস্তানের বোলিং দাপট
রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা পাকিস্তানি পেসার ও স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন শামীম হোসেন (২৫ বলে)। ফিল্ডিংয়ে শাহিন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ নেওয়াজকে একাধিকবার জীবন দেওয়ার চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
পাকিস্তানি পেসার শাহিন আফ্রিদি (৩/১৭) এবং স্পিনার সাইম আইয়ুব (২/১৬) ও মোহাম্মদ নেওয়াজ (১/১৪) বাংলাদেশের ইনিংসে বড় ধাক্কা দেন। এই তিন বোলার সম্মিলিতভাবে ১১ ওভারে মাত্র ৪৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন, যা বাংলাদেশের ডানা মেলতে দেয়নি।
ফলাফল: পাকিস্তান ১১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহিন শাহ আফ্রিদি।
