ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়বে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো
আল–জাজিরা

কাতারে আরব-ইসলামিক নেতাদের জরুরি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা। দোহা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ছবি: রয়টার্স
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৯: ১৬
কাতারের রাজধানী দোহায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নেতাদের ওপর ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে আরব ও ইসলামি দেশগুলো। গতকাল সোমবার দোহায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সম্মেলনে এই হামলাকে ইসরায়েলের ‘কাপুরুষোচিত’ হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেননি।
যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা
দোহায় অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) ‘যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চালু করার’ বিষয়ে অঙ্গীকার করা হয়েছে, যা এই সম্মেলনের সবচেয়ে বাস্তব পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে। জিসিসি-এর সদস্যদেশগুলো হলো বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই দেশগুলো তাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে।
কাতারের আমিরের বক্তব্য
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। তিনি তাঁর দেশে ইসরায়েলের বোমা হামলার তীব্র সমালোচনা করে একে নির্লজ্জ ও কাপুরুষোচিত বলে উল্লেখ করেন। শেখ তামিম বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আরব অঞ্চলকে ইসরায়েলের প্রভাব বলয়ের এলাকায় পরিণত করার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি একে ইসরায়েলের ‘বিপজ্জনক বিভ্রম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।’
তিনি আরও মনে করেন যে, মধ্যস্থতাকারী দেশের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, ইসরায়েলের সত্যিকার অর্থে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো ইচ্ছা নেই। বরং, তারা গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ৬৪ হাজার ৮০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
চূড়ান্ত পদক্ষেপ ও প্রত্যাশা
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মুহাম্মদ আল-আনসারি বলেন, জিসিসির সামরিক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা করছে এবং শিগগিরই দোহায় এই জোটের সমন্বিত সামরিক কমান্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিস্তারিত এখনো জানা না গেলেও এতে বলা হয়েছে যে, একটি সদস্যদেশের ওপর হওয়া হামলাকে সব সদস্যদেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আরও পড়ুন (https://tinyurl.com/23pdanvw)
যদিও সম্মেলনে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়নি, তবুও জিসিসি-এর মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউয়ি ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ড থামাতে দেশটির ওপর প্রভাব খাটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক আন্দ্রিয়া দেসি মনে করেন, এই সম্মেলন আরব ও ইসলামি দেশগুলোর অবস্থান ও সুরে পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
আল-জাজিরার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের লিঙ্ক হলো:
