মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাট) আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফেক আইডি’ খুলে বসুরহাট পৌরসভার নাম ও অফিসিয়াল লোগো ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৌরকর্তৃপক্ষ কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বসুরহাট পৌরসভার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অভিযোগ ও পৌরসভার বক্তব্য
পৌরকর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের লোগো অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়। এতে পৌরসভার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে দলে ভেতর উত্তাপের মধ্যেই নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মনোনয়নবঞ্চিত বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের পক্ষে অজ্ঞাত পরিচয়ের একদল ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফেক আইডি’ খুলে প্রচারণা চালাচ্ছে। এসব আইডিতে বসুরহাট পৌরসভার নাম, অফিসিয়াল লোগো এবং প্রশাসনিক পরিচয়সূচক তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
পৌর কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে আরও জানান, ফেক আইডিগুলো থেকে আবেদের পক্ষে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য, প্রচারসামগ্রী এবং রাজনৈতিক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এতে জনমনে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে এবং পৌর প্রশাসনের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও আবেদের ঘনিষ্ঠদের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়, অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ফেক আইডিগুলোর অ্যাডমিন শনাক্ত করতে সাইবার ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের ঘনিষ্ঠরা দাবি করেছেন, এসব ফেক আইডির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এটি ‘নির্বাচনী অপপ্রচার’ বলেও উল্লেখ করেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী-৫ আসন ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। মনোনয়নবঞ্চনা, বিক্ষোভ এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এলাকা উত্তপ্ত—আর তার মধ্যেই ফেক আইডি ব্যবহার করে পৌরসভার লোগো অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো বা প্রতীক অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। অপরাধ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পৌর কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।
