মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাট) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফখরুল ইসলাম এর সমর্থনে কবিরহাট উপজেলা বিএনপি ও পৌরসভা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৫ নভেম্বর রবিবার বিকেল ৪টায় কবিরহাট বাজারের জিরো পয়েন্টে এই সমাবেশে হাজারো নেতা-কর্মী ও স্থানীয় জনতার ঢল নামে।
সমাবেশের মূল বার্তা ও সভাপতিত্ব
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো। সভায় সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন, এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান।
বক্তারা বলেন, “এই অঞ্চলে অতীত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক হয়রানি, সন্ত্রাস ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমরা ভুলি নাই এবং কখনো ভুলবো না।“
ঐক্যের আহ্বান ও অভ্যন্তরীণ সতর্কতা
নোয়াখালী জেলা বিএনপির নেতারা বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেন:
“বিএনপির কিছু ব্যক্তি এখনো দলের মতের বিরুদ্ধে জনগণকে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যাহা দলের জন্য শুভ নহে। তারা তারেক জিয়া ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আশা করি আজকের পর তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। বিএনপিতে যারা দলের বিরুদ্ধে যাবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বক্তারা সবাইকে ফখরুল ইসলামের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা হলো এক হয়ে কাজ করতে হবে এবং আগামীতে সরকার গঠনে ঐক্যের কোনো বিকল্প নাই।
সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সতর্কতা
একটি দলের প্রসঙ্গে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে। বক্তারা নেতাকর্মীদের সদা সতর্ক থাকতে, ধৈর্য ধারণ করতে এবং কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন মতাদর্শের লোকদের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি মাহবুব আলমগীর আলো বিগত আওয়ামী লীগের আমলের হয়রানির কথা স্মরণ করে বলেন, “আমাদের নেতা মওদুদ আহমদকে ঘর থেকে বের হতে দেয় নাই, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বাধাগ্রস্ত করেছে। নোয়াখালীতে রাজনৈতিক কার্যক্রমও করতে দেয় নাই—এসব আমরা ভুলে যাইনি। আমরা বহু দলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।”
