নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জেলা বগুড়া দলের ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের ‘হারানো দুর্গ’ পুনরুদ্ধারে মাঠে জোরেশোরে নেমেছে বিএনপি।
১২ উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়ায় সংসদীয় আসন রয়েছে সাতটি। এর মধ্যে দুটি আসনে প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা:
- চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া: কোনো নির্বাচনে না হারা খালেদা জিয়া এবারও লড়বেন বগুড়া-৭ আসনে।
- ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান: এবারই প্রথম ভোটের লড়াইয়ে নামছেন বগুড়া-৬ আসনে।
দলীয় প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় জেলার অন্য আসনগুলোতেও প্রচারে নেমেছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদও মাঠে সক্রিয় আছে। এ ছাড়া জেলার সাতটি আসনে প্রার্থী হতে ইতিমধ্যে ১৪ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী রাফিয়া সুলতানা।
বগুড়ার ৭ টি আসনের চিত্র:
| আসন নং | নির্বাচনী এলাকা | বিএনপির মনোনীত প্রার্থী | জামায়াত মনোনীত/সমর্থিত | অন্যান্য প্রার্থী |
| বগুড়া-১ | সারিয়াকান্দি-সোনাতলা | কাজী রফিকুল ইসলাম (সাবেক এমপি) | শাহাবুদ্দিন (কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য) | ইসলামী আন্দোলন: এ বি এম মোস্তফা কামাল পাশা, বাসদ: শাহজাহান আলী। |
| বগুড়া-২ | শিবগঞ্জ | (প্রার্থী ঘোষণা হয়নি) | সাবেক সংসদ সদস্য শাহাদাতুজ্জামান | নাগরিক ঐক্যের: মাহমুদুর রহমান মান্না, ইসলামী আন্দোলন: মুফতি জামাল পাশা, বাসদ: মাসুদ পারভেজ। |
| বগুড়া-৩ | দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি | আবদুল মহিত তালুকদার (উপজেলা সভাপতি) | নূর মোহাম্মদ আবু তাহের (ইউপি চেয়ারম্যান) | ইসলামী আন্দোলন: শাজাহান তালুকদার, বাসদ: সুরেশ চন্দ্র দাস। |
| বগুড়া-৪ | নন্দীগ্রাম-কাহালু | মোশারফ হোসেন (সাবেক এমপি) | মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ (সাবেক সভাপতি, ঢাকা মহানগর শিবির) | ইসলামী আন্দোলন: ইদ্রিস আলী, বাসদ: সাইফুজ্জামান টুটুল। |
| বগুড়া-৫ | শেরপুর-ধুনট | গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (সাবেক এমপি) | দবিবুর রহমান (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আমির) | বাসদ: সন্তোষ সিং, ইসলামী আন্দোলন: মীর মাহমুদুর রহমান। |
| বগুড়া-৬ | সদর | তারেক রহমান (দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) | আবিদুর রহমান (সোহেল) (শহর আমির) | বাসদ: দিলরুবা নূরী, ইসলামী আন্দোলন: আ ন ম মামুনুর রশিদ। |
| বগুড়া-৭ | গাবতলী-শাজাহানপুর | খালেদা জিয়া (বিএনপি চেয়ারপারসন) | গোলাম রব্বানী (শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি) | ইসলামী আন্দোলন: শফিকুল ইসলাম, বাসদ: শহিদুল ইসলাম। |
নেতাকর্মীদের মন্তব্য
- বগুড়া-৬: জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখানে প্রার্থী হওয়ায় সর্বস্তরের ভোটারের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। সব রেকর্ড ভেঙে তারেক রহমান সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।”
- বগুড়া-৭: জামায়াতের প্রার্থী গোলাম রব্বানী বলেন, “বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগেও করেছি। এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।” গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দলের চেয়ারপারসন প্রার্থী হওয়ায় সাধারণ ভোটাররা উচ্ছ্বাস–আবেগে ভাসছেন।
- বগুড়া-২: নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “ভোট যদি হয়, আমি এখানে দাঁড়াব। আমার দল আছে, দলের নিবন্ধন আছে; মার্কা (প্রতীক) আছে। আমার মার্কায় আমি ভোট করব।”
বগুড়ার জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “বগুড়া বিএনপির দুর্গ ছিল, এখনো অক্ষুণ্ন আছে।”
